আমরা কারো ব্ল্যাকমেইলে কারো কাছে হাঁটু নোয়াব না: এরদোগান

185770_1
Share Button

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তুরস্ক কোনো লঙ্ঘন করেনি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

রবিবার একে পার্টির কংগ্রেসে দেয়া বক্তব্যে এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘আমরা কি করেছি? আমরা আমাদের চুক্তি অনুযায়ী একটি দেশ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয় করেছি যাতে আমাদের নাগরিকরা শীতকালে শীতে কষ্ট না করে এবং যাতে আমাদের অর্থনীতি সচল থাকে।’

তিনি বলেন, ‘তুরস্ক কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে। কিন্তু দুঃখিত যে আমরা কারো ব্ল্যাকমেইলের কারণে কারো কাছে হাঁটু নোয়াব না।’

ইরানের উপর জাতিসংঘ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পরিকল্পনায় এরদোগানের ভূমিকা ছিল বলে নিউইয়র্কে মার্কিন ফেডারেল আদালতকে জানান তুর্কি-ইরানি ব্যবসায়ী রেজা জাররাব।

মানি লন্ডারিং এবং ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে গত মাসে জাররাববে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি এখন বিচারে তুর্কি ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে শনিবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, ‘জালিয়াতি প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের নিন্দা করতে পারে না। মার্কিন আদালত আমার দেশকে নিয়ে নাক গলাতে পারে না।’

রয়টার্স জানায়, তুরস্কের সরকারকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রেজা জাররাবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করেন এরদোগান।

বৃহস্পতিবার জাররাব বলেন যে, এরদোগান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রচারণার জন্য কয়েকটি তুর্কি ব্যাংককে অনুমতি দিয়েছিল।

গত মাসে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে তুরস্ক ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সম্পর্কের বিস্তারিত জানার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা জাররাবকে চাপ প্রয়োগ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের প্রত্যার্পণ নিশ্চিত করার জন্য মাইকেল ফ্লিনকে ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল কিনা সে বিষয়টি বিশেষ করে খতিয়ে দেখছেন মার্কিন তদন্তকারীরা।

২০১৬ সালের তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টার মাস্টারমাইন হিসেবে এরদোগান গুলেনকে অভিযুক্ত করে আসছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজস থাকার বিষয়ে গত মার্চে এফবিআইকে দেওয়া তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ এ বিষয়ে তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির শীর্ষ এক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী ফ্লিনের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ফ্লিন সমস্ত দায়িত্ব স্বীকার করে বলেছেন, এর দায়ভার সম্পূর্ণটাই তার। তিনি গত বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে গঠিত মুলারের তদন্ত কমিটিকে সব ধরনের সহায়তা করারও অঙ্গীকার করেন আদালতে।

তুর্কি-ইরানীয়ান স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত মামলাকে প্রভাবিত করতে তৎকালীন মার্কিন আইনজীবী প্রীতি ভরারাকে বরখাস্তের জন্য সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাধ্যমে এরদোগান তদবির করেছিলেন বলা দাবি করা হয়েছে। ওই সময়ে প্রীতি ভরারা মামলাটির তত্ত্ববধানের দায়িত্বে ছিলেন।

বাইডেন এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক বরখাস্ত হন।

২০১৬ সালের অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলাকালে ১৫০,০০০ জনেরও বেশি তুরস্কের নাগরিক তাদের চাকরি হারায় কিংবা স্থগিত করা হয় এবং আরো ৫০ হাজার জনকে কারাবন্দী করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন, আনাদুলো এজেন্সি






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন বাহিনী বানাচ্ছে সিউল
  • মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার চায় আরব দেশগুলো
  • বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিস্তিন: নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ইসরাইলী সেনারা
  • ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান
  • জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী : ট্রাম্প
  • জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন ট্রাম্প
  • ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: এরদোগান
  • ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ নিহত