কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নৌকাডুবি: শিশুসহ ৬০ জনেরও অধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

182219_1
Share Button

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক ::
মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা ডুবে ৬০ জনের অধিক মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বিবিসির বরাতে সংস্থাটির এক মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালের ওই নৌকাডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। আরো ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

নৌকাডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া এক রোহিঙ্গা বৃহস্পতিবার আইওএমকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বহনকারী ওই নৌকায় ৫০ শিশুসহ প্রায় ৮০ জন রোহিঙ্গা ছিল। তারা সবাই মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হামলায় সহিংসতার শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিকূল আহবহাওয়ায় সমুদ্রে পানির প্রচণ্ড তোড়ের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়।

আইওএম-এর মুখপাত্র জোয়েল মিলম্যান শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য আছে। আমাদের মনে হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে ৬০ থেকে ৬৩ জনে।’

মিলম্যান জানান, যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তারা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। সারা রাত তাদের সাগরে কেটেছে, সঙ্গে কোনো খাবারও ছিল না।’

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন প্রদেশে সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গার বাড়িঘর ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পাঁচ সহস্রাধিক নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গাদের উপর ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে মায়ানমার।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, রোহিঙ্গাদের ৮০ বসতি পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার বাহিনী ও উগ্রবাদী জনতা। এমন কি পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

সামরিক অপারেশন বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
বৈঠকের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টেনিও গুটেরেস বলেছেন, মায়ানমারে সহিংসতা বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি করেছে যা কিনা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে।

তিনি মায়ানমার সরকারের জন্য তিনটি বিষয় প্রস্তাব করেছেন।

গুতেরেস বলেন, ‘প্রথমত, সামরিক অপারেশন বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মানবিক সাহায্যের জন্য অবিচ্ছেদ্য প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিতে হবে। তৃতীয়ত, উদ্বাস্তুদের নিজেদের এলাকায় নিরাপদ ও টেকসই অবস্থায় ফিরে যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

জাতিসংঘের মহাসচিব সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি গত কয়েক দশকের বৈষম্য ও অবিচারের ফলে তারা যদি মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে তা আমাদেরকে বিস্মিত করবে না।’

রাখাইনে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতি দেশটির বৈরি আচরণে গুটেরেস তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা মায়ানমারের অন্য এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত কোরো ব্যাসো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কঠোর নিন্দা জানান এবং বলেন, তার দেশ এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী’র জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত
  • এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণ
  • রামুতে জস্নে জুলুস্ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
  • কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৭
  • ধর্মীয় উৎসব সবার মাঝে সম্প্রীতি বন্ধনের সৃষ্টি করে : ইউএনও শাহজাহান আলি
  • রামুর সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি : রিয়াজ উল আলম
  • উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে রামু প্রেস ক্লাব