গোয়ালডাঙ্গা সমবায় সমিতি সদস্যদের উন্নয়নের প্রতীক

assasuni-photo-1-19-may
Share Button

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি :: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ সদস্যদের সার্বিক উন্নয়নের প্রতীক হয়ে খাড়িয়ে আছে।

সদস্যরা তাদের প্রয়োজনে সব সময় সমিতিকে ব্যবহার করে দুঃসময়ের বন্ধু হিসাবে গর্বিত প্রতিষ্ঠানে কাছে পাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় গর্বিত বোধ করছে।

সরকার সমবায়ী মনোভাবের মাধ্যমে মানুষকে সঞ্চয়ী ও আত্মপ্রত্যয়ী হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমবায় বিভাগকে দিয়ে সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয়ে সমবায় সমিতির মাধ্যমে রক্ত চুষে খাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরতীতে এলাকার কিছু সমবায়ী ২০১৩ সালে গোয়ালডাঙ্গায় এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। সমবায় বিভাগের মাধ্যমে সমিতিটিকে গড়ে তুলতে সমবায় বিভাগের সার্বিক লক্ষ্য মেনে নিয়ে সরকারি নির্দেশনা মান্য করার ওয়াদা করে রেজিস্ট্রীভুক্ত করান হয়। রেজিঃ নং- ৪৮/সাতঃ।

প্রথমে আশাশুনি উপজেলার কিছু গ্রামকে কর্ম এলাকা হিসাবে স্বীকৃতি পেলেও পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলাকে কর্মএলাকা হিসাবে কাজ করার স্বীকৃত লাভ করে। বর্তমানে এই সমিতি বড়দল, খাজরা, আনুলিয়া, কাদাকাটি, দরগাহপুর, আশাশুনি সদর, চাম্পাফুল, শ্রীউলা, কুল্যা ও বুধহাটা ইউনিয়নে কাজ করছে। সদস্য সংখ্যা ২৫৭৯ জন। কেন্দ্র রয়েছে ৬৭ টি। সদস্যরা সদস্য ভর্তি ফি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমা দিয়ে সঞ্চয়ী মনোভাব নিয়ে টাকা জমা করে থাকেন। এরপর প্রয়োজনে সঞ্চয় ফেরৎ নেওয়ার পাশাপাশি তারা তাদের প্রয়োজনে সমিতি থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে কিস্তিতে পরিশোধ করে থাকেন। এতে তারা সক্ষমতা মত মালামাল বাকীতে ক্রয় করে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করে মালামালের মালিক হয়ে থাকেন। গৃহস্থলী জিনিসপত্র এবং ছেলেমেয়ের বিয়ের সময়, কিংবা অন্য কোন কারনে যখন মালাামল ক্রয় খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়ে, অথচ ক্রয়মূল্য থাকেনা, সেই সময় অসহায় সদস্যদের পাশে এসে দাড়িয়ে থাকে এই সমবায় সমিতি।

সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে বাকীতে সরঞ্জামাদি ক্রয় করার সুযোগ দিয়ে থাকে এই সমিতি। কন্যাদায় গ্রস্তদের জন্য কোন অগ্রিম টাকা দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে সম্পূর্ণ বাকীতে মাল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে সমিতি সৌর প্যানেল, স্টিলের সোকেজ, বাক্স, আলনা, চাউলের ড্রাম, কাঠের পালঙ্ক, কাঠের সোকেজ, মাইক সেট, বিয়ের সরঞ্জাম, চেয়ারসেট, বাই সাইকেল, সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ী, টিউবওয়েল, টিভি, টিন, ফ্যান, রাইচ কুকার, স্টিলের পালঙ্ক, পানির ফিল্টার, প্লাস্টিক/স্টীল টেবিল, ডাইনিং সেট, বাথরুম সরঞ্জাম, প্রেসার কুকার, ধানঝাড়া মেশিন, ডিজিটাল মিটার, কাঠের আলনা, এ্যালবেস্টরসহ অনেক কিছু সরবরাহ করছে। এছাড়া চিকিৎসা ও কন্যা দায়গ্রস্তদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দান করা হয়ে থাকে। এলাকায় সুপেয় পানির হাহাকার পড়ে যাওয়ায় সমিতি তার সদস্যসহ এলাকার মানুষের সুপেয় পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করেছে। এখানে পানি বিশুদ্ধকরণ করে সদস্যসহ এলাকার মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করা হয়ে থাকে।

এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে যৎসামান্য লাভ এসে থাকে সেটি বছর শেষে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতি বছর সমবায় বিভাগ থেকে নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতি অডিট করে থাকেন। অডিটান্তে লভ্য্ংাশের উপর নির্ধারিত অঙ্কের টাকা সরকারি কোষাগারে জমাদানের মাধ্যমে দায়িত্বপালন করা হয়ে থাকে। সমিতিটিতে বর্তমানে সদস্য সঞ্চয় জমা হয়েছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা। শেয়ার মূলধন ও বিভিন্ন ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে সমিতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সমিতির কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি পরিপত্র/উপ-বিধি মোতাবেক সমিতি পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জি এম মিরাদুল ইসলাম। ম্যানেজার বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ গনি। ক্যাশিয়ার হিসাবে কর্মরত আছেন গোপাল চন্দ্র মন্ডল। সমিতির সভাপতি জি এম মিরাদুল ইসলাম জানান, সমিতি সততা ও সচ্ছতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। বিধায় এটি সদস্যদের কাছে প্রিয় ও সুখ-দু:খের সাথী হিসাবে স্থান দখল করতে পেরেছে।

তার স্বপ্ন আগামীতে এলাকায় একটি খেলার মাঠ ও ইটভাটা করা। যেখানে বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভাটায় সমিতির সদস্যদের কর্মসংস্থান ও সদস্যদেরকে মাটি/বেড়ার ঘরকে ইটের ঘরে রূপান্তরিত করতে পারবেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন
  • আশাশুনিতে স্বাশিপ’র মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
  • আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচন আজ
  • আশাশুনিতে সিএইচসিপিদের অবস্থান কর্মসূচি পালন
  • বর্ণালী বসাকের সাফল্য
  • আশাশুনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২
  • আনুলিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুফলভোগিদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
  • আশাশুনিতে কোল্ড ইঞ্জুরি ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট ॥ কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত