নাগালের বাইরে মাছ, মাংস, সবজির বাজার

kar-bg20171006073214
Share Button

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক ::
নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাছ, মাংস, সবজির দাম। এতদিনে ইলিশের ভিড়ে অন্য মাছের তেমন কদর না থাকলেও ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় বেড়েছে অন্য মাছের দাম।

মিঠাপানির যে কোনো মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। চাষের কই, পাঙ্গাশ তেলাপিয়া নিম্নআয়ের মানুষের ভরসা। সবজির বাজারও বেশ চড়া। তবে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে কমেছে চার থেকে ছয় টাকা।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা, রুই ২৫০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, চাষের শিং ৪০০-৫০০ টাকা, কোরাল ৪০০ টাকা, লইট্টা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও শোল মাছ ৫০০-৫৫০ ও পাঙ্গাশ ১২০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানান, ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ। নদীতে জাল ফেলে অন্য মাছও ধরা যাচ্ছে না। তাই, মাছের দাম বেশি।

কারওয়ান বাজার সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি মুলা ৪০-৪৫ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা সিম ৭০-১১০ টাকা, কচুর লতি ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, গাঁজর ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৬৫ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০-২৫ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, সাইজ ভেদে প্রতিটি কচু ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকা, লেবু সাইজ এবং ধরনভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচ ১০০-১৫০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ দেশি ৪৫-৫০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ, রসুন দেশি ৭০-৯০ টাকা, ডিম প্রতি হালি ২৬-২৮ টাকা, বয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৭০-৪০০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে সবজি ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, মাছ ও সবজির বাজার খুব চড়া। ইলিশ বাজারে নেই।

তার অভিযোগ, ইলিশ ধরা বন্ধের সুযোগে ব্যবসায়ীরা মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মাছ, মাংস, শাক-সবজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দিন দিন নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রাজধানীর ফকিরাপুল বাজারে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, লম্বা বেগুনের কেজি প্রতি দাম ১০০ টাকা। বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, ধুন্দল, মুলা ও ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ছোট একটি লাউ ৬০ টাকার নিচে কিছুতেই বিক্রি করতে রাজি নন বিক্রেতারা। একটি জালি কুমড়ার দাম চাওয়া হয় ৫০ টাকা।

রাকিবুল নামে এক বিক্রেতা জানান, তার দোকানে ৬০ টাকা কেজির নিচে সবজি আছে তিনটি। কচুরমুখী, কাঁচা পেঁপে আর কুমড়া। তিনি বলেন, সবজির দাম অনেক দিন ধরেই বেশি। সম্প্রতি, তা আরো বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম, কেজি এখন ২০০ টাকা।

এদিকে, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিন-চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। চালের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সরকারের সঙ্গে এক বৈঠকে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন চাল ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকেরা। এরপর থেকে প্রায় ২০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম সর্বোচ্চ ছয় টাকা কমেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কলাবাগান, সেগুনবাগিচা, বাড্ডাসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়। এই দাম উঠে গিয়েছিল ৫৪ টাকা পর্যন্ত।

হাতিরপুল বাজারের ফারুক স্টোরের খুচরা বিক্রেতা মোহসিন মিয়া জানান, তিনি স্বর্ণা (মোটা) চাল বিক্রি করছেন ৪৮ টাকায়। তার দোকানে মোটা চালের দাম কেজিতে ছয় টাকা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

খুচরা বাজারে চিকন চালের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় মানভেদে এক থেকে দুই টাকা দাম কমেছে। বিভিন্ন ধরনের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম মানভেদে কিছু পড়েছে। পাইজাম চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকায়। অস্থিরতার সময় এর দাম ৫৮-৬০ টাকায় উঠেছিল।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • মেলায় ২২১৭ কোটি টাকা আয়কর আদায়
  • ‘সিলেট তামাবিল স্থলবন্দর চালু হওয়াতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে’
  • এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
  • “ইসলামিক ব্যাংকিং এ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষন র্কমশালা
  • অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ
  • কারখানা স্থাপনে অনুমোদন মিলবে দুই মাসেই
  • ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর