নেত্রকোনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ

index
Share Button

মেহেদী হাসান রাজ, নেত্রকোনা থেকে :: নেত্রকোনার সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে তিনটি গ্রামের মানুষের কাছ থেকে একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গ্রাম চারটি হলো দক্ষিন বিশিউড়া,শিমুলজানি, হবিয়ারগাতি ও কয়রা। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সমর্থক হবিয়ারগাতি গ্রামের মজিবুর রহমান ও শিমুলজানি গ্রামের সুমন দত্তের নেতৃত্বে এই টাকা তোলা হচ্ছে। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের শিমুলজানি থেকে কয়রা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। নতুন বিদ্যুৎ লাইনের আওতায় অন্তত ২৫০টি পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা পাবে।

এখানে সদস্য ফি ৫০ টাকা আর সংযোগের জন্য জামানত হিসেবে গ্রাহকদের দিতে হবে ৬০০ টাকা করে। এ ছাড়া আর কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু মজিবুর ও সুমনের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত অন্তত ৫০টি পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে চক্রটি। এর আগেও গত বছরের জুন মাসে ওই দুই ব্যক্তি ৭৫টি পরিবারের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ লাইন না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চাপে কয়েক মাস পর ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে কেটে রেখে বাদবাকি টাকা ফেরত দেন তাঁরা।

দক্ষিন বিশিউড়া গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান,গত দুই বছরে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার কথা বলে দাপুনিয়া গ্রামের হান্নান মোট সাত লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারপরের আমরা পাইনি বিদ্যুতের সংযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘গত বছরের জুনে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার কথা বলে সুমন ও মজিবুর আমার কাছ থেকে দুই দফায় ৩ হাজার টাকা নেন। পরে ২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেন।

এখন চার-পাঁচজনের একটি দল নিয়ে টাকার জন্য তাঁরা তাগাদা দিচ্ছেন।’ শিমুলজানি গ্রামের দুই সহোদর তারা মিয়া ও সবুজ মিয়া এবং পাশের হবিয়ারগাতি গ্রামের নাছির মিয়াসহ অন্তত আটজন বাসিন্দা বলেন, সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ অফিসের বসদের টাকা দিতে হবে, এমন কথা বলে সুমন, মজিবুরসহ আরও কয়েকজন তাঁদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। মুঠোফোনে জানতে চাইলে সুমন দত্ত বলেন,‘গত বছর আমরা কয়েকজন মিলে মন্ত্রী মহোদয়ের (উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়) কাছ থেকে দেড় কিলোমিটার লাইনের বিদ্যুতের একটি সিরিয়াল এনেছি। তিন দিন আগে একজন ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশলী) এসে মেপে গেছেন। টাকা না দিলে তো সংযোগ পাওয়া যাবে না। এ জন্য টাকা তোলা হচ্ছে।’

মজিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়,এটি রং (ভুল) নম্বর। এদিকে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান দেশের বাইরে আছেন। এ জন্য তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মদন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মাহবুল আলী বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। এরপরও তদন্ত করে দেখা হবে।

ওই সংযোগ লাইনের দায়িত্বে থাকা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের নামে একশ্রেণির প্রতারক সহজ-সরল গ্রামবাসীকে ভুল বুঝিয়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে মাঝেমধ্যে শোনা যায়। আমরা এ ব্যাপারে গ্রাহকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। মাঝেমধ্যেই মাইকিং করা হচ্ছে। মিটারের কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাঁকে ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • নকলায় বাল্যবিবাহ মুক্ত যৌতুক ও মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত
  • মান্দা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াড যুবদলের কমিটি গঠিত
  • গোলাপগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ
  • বেনাপোল সীমান্তে দেড় লাখ টাকা ও ১০টি স্বর্ণের বারসহ আটক এক
  • পাইকগাছা জাদুঘরে হদিস মিলছেনা সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত জিনিসপত্রের
  • মোটর মেকানিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের
  • নকলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, সূর্যের দেখা নেই
  • পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত