মানুষের সম্মান রক্ষায় ইসলামের ভূমিকা

1502237260_1
Share Button

অনলাইন ডেস্ক :: মান-সম্মান রক্ষার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা লাভ করা মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এ অধিকার সম্পর্কে কোরানে কারিমে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের মধ্যকার একদল যেন আরেক দলকে নিয়ে হাসি-তামাশা বিদ্রুপ না করে।’ ‘তোমরা একজন অন্যজনকে মন্দ উপাধি দিয়ে ডেকো না।’ ‘তোমরা একে অপরের নিন্দা (অসাক্ষাতে) কর না।’ ‘অপরের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান কর না।’-সূরা হুজরাত: ১১-১২

কোরানে কারিমের এই আয়াতদ্বয়ে মানুষের মান-সম্মানের ওপর আক্রমণ করার যত উপায় ও পন্থা হতে পারে তার সব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে, কোনো মানুষ সে সামনে উপস্থিত থাক বা না থাক, তাকে নিয়ে বিদ্রুপ ও হাসি-তামাশা করা যাবে না, তাকে মন্দ নামে আখ্যায়িত করা যাবে না, ডাকা যাবে না এবং তার নিন্দাবাদও করা যাবে না। কেউ কারো মর্যাদার ওপর আঘাত করবে না। হাত ও মুখের দ্বারা কারো ওপর কোনো প্রকার জুলুম-অত্যাচার করবে না।

এভাবে ইসলাম মানুষের মান-সম্মানের নিরাপত্তার অধিকার প্রদানের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত গোপন জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করেছে। ইসলামের দেয়া মৌলিক অধিকার অনুসারে প্রত্যেক মানুষই তার ব্যক্তিগত জীবনকে নিরাপদ রাখার অধিকার রাখে। এ ব্যাপারে কোরানে কারিমে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে, ‘তোমাদের নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ কর না, যতক্ষণ না তাদের আগ্রহ সম্মতি পাও।’-সূরা নূর: ২৭

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘নিজের ঘর থেকেও অন্যের ঘরে উঁকি দেয়ার অধিকার কারো নেই।’ কোরানের এই আয়াত ও হাদিস মানুষের ব্যক্তিগত অধিকারকে নিশ্চিত করেছে। এখানে বলে দেয়া হয়েছে, অন্যের কোনো বিষয়ে অযাচিতভাবে নাক গলানো, অপরের দোষ অন্বেষণ ও অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়াদি গোপনে জানার ও দেখার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। অর্থাৎ মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়াদিতে অন্যের উঁকি-ঝুঁকি ও হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ থাকার পূর্ণ আইনগত অধিকার যে কোনো মানুষের আছে।

যে কোনো ব্যক্তির খোলামেলা পারিবারিক পরিবেশ ও গোপনীয়তা বজায় থাকার অধিকার রয়েছে। এক হাদিসে নবী (সা.) অবৈধভাবে উঁকি-ঝুঁকি প্রদানকারীর চোখ ছিদ্র করে দেয়ার কথা বলেছেন। এমনকি কারো ব্যক্তিগত চিঠি-পত্র পড়তেও ইসলাম নিষেধ করেছে। তবে কারো ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যদি জানা যায় যে, সে বিপজ্জনক কাজ-কর্মে লিপ্ত আছে, তাহলে তার সম্বন্ধে খোঁজ-খবর নেয়ার বিষয়টি ভিন্ন।



(পরবর্তী সংবাদ) »