মান্দায় সেতুর অভাবে ৭০ গ্রামের দু’লক্ষাধিক মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত

harun-manda-bri-pic-01-10-11-2017
Share Button

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা ::
নওগাঁর বৃহত্তম মান্দা উপজেলার সদরের আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাট নামক স্থানে একটি সেতুর অভাবে ৫টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের অভাবে তাদের ভোগান্তির কোন শেষ নেই। এটি নির্মাণ হলে বদলে যেতে পারে মান্দার উন্নয়নের সার্বিক চিত্র।

এতে একদিকে যেমন বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়,মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ অফিস-আদালতগামী লোকজনের যাওয়া-আসার ভোগান্তি ও সময় যেমন লাঘব হবে তেমনি অত্রাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ও ব্যাপক বিস্তৃতি ও প্রসার ঘটবে। নওগাঁর বৃহত্তম মান্দা উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এখানে একটিমাত্র উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন গঠিত। প্রায় ৩০-৩৫টি ছোট-বড় হাট-বাজার থাকার কারণে সবচেয়ে বেশী রাজস্ব আয় হয় এ উপজেলা থেকে।

তাছাড়া হাসপাতাল সহ সব অফিস আদালত,শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান আত্রাই নদীর দক্ষিণে অবস্থিত। ফলে উত্তর পাড়ের লোকজন নানা রকম উন্নয়ন থেকে আজও বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। প্রতিদিন নানা দরকারে উক্ত খেয়াঘাট পার হতে হয় এখানকার অবহেলিত বাসিন্দাদেরকে ।স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও এই সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকার বদল হয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় না কখনো। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সেতুটি নির্মাণের জন্য নানা রকম মুখরোচক ও মন ভোলানো প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অবধি তা আলোর মুখ দেখেনি।

তবে এলাকার মানুষের অভিযোগ, বর্তমান পাটনী রামনাথ চৌধুরী ও তার ভাইয়েরা ৮নং কুশুম্বা ইউনিয়নের শাখুমখোল গ্রামের বাসিন্দা ছিল। পরে খেয়াঘাট পাওয়ার লোভে ৭নং প্রসাদপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে এসে আস্তানা গড়ে তোলেন। ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ঘাট ইজারা নেন মুনছুর রহমান মৃধা। কিন্তু ১৯৯৫ সালেই বুড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও চকখোপা গ্রামের সাইফুল ইসলামের যোগসাজসে ও তৎকালিন সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা নাছির উদ্দিন জিহাদীকে ভ’ল বুঝিয়ে প্রসাদপুর গ্রামের পাটনী হরিকৃষ্ণ ও তার ভাই শ্রীকৃষ্ণকে বাদ দিয়ে উল্টো রামনাথ চৌধুরীকে নাম মাত্র ৬হাজার টাকায় ইজারা ডাকের মাধ্যমে পাটনীশীপ দিতে সহযোগিতা করেন। যা একটি বিশাল ষড়যন্ত্র ছিল। এ খেয়্ঘাাটে প্রতি বছরে শতকরা মাত্র ১০ ভাগ ইজারা মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

মূলতঃ বর্তমান পাটনীশীপ পাওয়া এ তিন ভাই-ই লাখ লাখ টাকার টোল আদায়ের জন্য এখানে সেতু নির্মাণের প্রধান বাঁধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া সাবেক আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র সরকার এখানে সেতু নির্মাণের জন্য দাবী করলেও বর্তমান আওয়ামীলীগ সভাপতি নিজের বাসা-বাড়ির ভাড়া কমে যাওয়ার ভয়ে ও এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজসে এ ঘাটে সেতু নির্মাণে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ খেয়াঘাটের পাটনী রামনাথ চৌধুরী ও তার ভাইয়েরা মিলে ২০০৩ সাল থেকে বাণ্যিজিকভাবে বাঁশের সেতু নির্মাণ করে আসছেন। মূলতঃ তখন থেকেই এখানে সেতু নির্মানের জন্য নতুন করে আবার দাবী উত্থাপন করা হয়। এখানে সেতুটি নির্মাণের জন্য বর্তমানে প্রায় ৭০ গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাঁশের এ সেতু দিয়ে শুধুমাত্র খরা মৌসুমে মধ্য কার্ত্তিক মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস পর্যন্ত প্রায় ৬-৭মাস মানুষ যাতয়াত করতে পারে। কিন্তু ভরা বর্ষা মৌসুমে খেয়া পারাপারের জন্য ঘাটের উভয় পাড়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ অফিসগামী লোকজনকে ঘন্টার পর ঘন্টা নৌকা পারাপারের জন্য অসহায়ের মতো বসে থাকতে হয়। তাছাড়া ভরা বন্যায় নৌকাডুবির আশংকায় ভয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীই বিদ্যালয়মুখী হতে চাননা। অনেক সময় মুুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সেতুটি নির্মাণ হলে সাতবাড়িয়া মোড় থেকে দেলুয়াবাড়ীহাট পর্যন্ত নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বাইপাস সড়ক হিসাবে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। ফলে যানজট সমস্যারও সমাধান হবে। সেতুটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে মান্দাবাসী সে আশায় দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। অনেকের আপেক্ষ্য তাদের জীবন দশায় সেতুটি আশা আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি হবে না। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে মান্দাবাসীর প্রত্যাশা ও দাবী।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রশিদ জানান, আমি শুনে আসছি বর্তমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মহোদয় সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এনে তা একনেকে পাশের জন্য বারবার সংসদে দাবী উত্থাপন করেছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনও তা পাশ না করানোই বাস্তবায়ন হতে দেরি হচ্ছে। তবে আদৌ তা কবে আলেঅর মুখ দেখবে তা সরকার দলীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • পার্বতীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত
  • দিনাজপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৪
  • পার্বতীপুরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত
  • পার্বতীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত
  • রংপুরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুষ্ঠুভাবে আনসার প্রশিক্ষণার্থী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
  • ভবানীপুর ডিগ্রী কলেজে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • কুড়িগ্রামে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও মোবাইল সেট মেরামত কোর্সের উদ্বোধন