মান্দায় স্কুল ছাত্রীর সাবেক স্বামী ও বন্ধুর অসামাজিক কাজে বাঁধা দেয়ায় ৩জনকে পিটিয়ে জখম ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্ঠা

harun-manda-ahoto-pic-01-17-11-2017
Share Button

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ::
নওগাঁর মান্দায় এক স্কুল ছাত্রীর সাথে সাবেক স্বামী ও বন্ধুর অসামাজিক কাজে বাঁধা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ ছাত্রীর সাবেক স্বামীর অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ৩জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এরা হলেন মান্দা বন বিভাগের মালী আবদুল জব্বারের ছেলে আহম্মদ আলী (২৮) বিআরডিবি’র নৈশপ্রহরী হেলাল উদ্দিন (৪০) এবং উপজেলা পরিষদের নৈশ প্রহরী সোহরাফ হোসেন (৩৫)।

আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদের ডরমেন্টরীর দোতলার এক টয়লেটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাবেক গাড়ি চালক বাবলু কুমারের ছেলে সন্ত্রাসী উত্তম কুমারের সাথে প্রায় ৩ বছর আগে উপজেলার ছোটবেলালদহ গ্রামের শ্রী নিরাঞ্জন চন্দ্র দাস (সঞ্চার) মেয়ে কুমারী সমাপ্তি রাণী দাসের (১৪) বিয়ে হয়। গত প্রায় এক বছর আগে সন্ত্রাসী ও মধ্যপ উত্তম কুমারের সাথে সমাপ্তি রাণীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে সমাপ্তি মান্দা থানা আর্দশ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়ররত।

মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন জখমপ্রাপ্তরা জানান, ঘটনার দিন গত শুক্রবার সকালে পূর্ব পরিচিতির সূত্র ধরে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে নবম শ্রেণী পড়–য়া ওই স্কুল ছাত্রীকে উপজেলা পরিষদের ডরমেন্টরীর দোতলার টয়লেটের মধ্যে ডেকে নেয় তার সাবেক স্বামী উত্তম কুমার। পরে জোরপূর্বকভাবে ঐ ছাত্রীকে সাবেক স্বামী উত্তম কুমারের সাথে কামারকুড়ি গ্রামের পিন্টুর ছেলে লিটন মিলে ধর্ষণের চেষ্ঠা করে। ছাত্রীটি চিৎকার দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ধস্তাধস্তির কারণ জিজ্ঞেস করেন ও এর প্রতিবাদ জানান। এতে ওরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা কৃষক লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও আশরাফ আলীর সন্ত্রাসী ছেলে নিজাম উদ্দিনকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদেরকে পিটিয়ে জখম করে। রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহপ্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, যুবলীগের সভাপতি নাহিদ মোর্শেদ বাবু, মহিদুল হক বাদশাসহ প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বসে ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসা করে নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন চিকিৎসা ব্যয় ও খরচ বহন করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মান্দা থানার পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ বাদি না হওয়ায় ও ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ডরমেন্টরীতে এ ধরণের ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। ধর্ষণ চেষ্ঠার অভিযোগ তিনি খতিয়ে দেখবেন। তিনি উপজেলা পরিষদে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে পরিষদ চত্বরে ঐ তিনজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তবে ডরমেন্টরীতে কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় পুরো ঘটনাটি জানানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আরো জানান, ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসা হয়ে গেছে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • বাস চাপায় সিএনজির ৫ আরোহী নিহত
  • নকলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  • নকলায় বাল্যবিবাহ মুক্ত যৌতুক ও মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত
  • মান্দা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াড যুবদলের কমিটি গঠিত
  • গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত ২
  • মান্দায় শিশু কিশোর কংগ্রেস বিজ্ঞান অ্যাক্টিভেশন কর্মশালা
  • মান্দায় বাসের ধাক্কায় বিভাগীয় কমিশনারসহ ২জন আহত