খালেদা জিয়ার রায় পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ

Share Button

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক ::
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের রায় পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ।

রায় দেয়া মাত্রই এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ মুহূর্তে রায়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছি না। তবে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিয়মিত ‘নুন ব্রিফিং’-এ বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বিশ্ব সংস্থার এই মুখপাত্র।

ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও নির্বাচন দেখতে চায়, যা আমরা বার বার বলে আসছি।

উল্লেখ্য, গতকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর আগে দুপুর ২টা ১৪ মিনিটের দিকে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন তিনি। এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালত চত্বরে পৌঁছান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরই মধ্যে রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তার দলের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে অনেককে।

এর আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মগবাজার এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মী সেখানে যুক্ত হন। এ সময় রাস্তার পাশেও অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে সেখানে যুক্ত হন। তারা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়ে এগোতে থাকেন।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনতিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফলে দেশবাসীর আগ্রহ অন্যরকম। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই টানটান উত্তেজনা জনমনে ছড়িয়ে পড়ে। রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির মাঠে রায় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনও।

দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

বিএনপির অভিযোগ এই রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল শুরু করেন।

মামলার অভিযোগে যা আছে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ পরিচালক হারুন -অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রমনা শাখার সোনালী ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন। যার নম্বর ৫৪১৬। ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডি ডি নং ১৫৩৩৬৭৯৭০ তে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা জমা হয়। পরে খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন আসামির নামে ‘এফডিআর’ করে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের উদ্দেশে উত্তোলন করেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১০৯ ধারা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নং আইনের ৫ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এজাহারে ঘটনার সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় আসামি যারা
এ মামলায় আসামি সংখ্যা ছয়জন। ওই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ আসামি ছিলেন সাতজন। তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় আসামি সাইয়েদ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে বাদ দেওয়া হয়। মামলায় নতুন করে আসামি করা হয় সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে।

পলাতক যারা
মামলার শুরু থেকেই পলাতক আছেন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং মমিনুর রহমান। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে। তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

৪৩ দিন হাজির ছিলেন খালেদা জিয়া
মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে ৪৩ কার্যদিবস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আট কার্যদিবস। মামলাটি ২৬১ কার্যদিবস পরিচালিত হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এক মাস নয়দিন কারাভোগ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রায়ে সাজা হলে এসব দিন তার সাজা থেকে বাদ যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আটক হওয়ার পর রমনা থানায় ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয় ১ মাস ৯ দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাভোগ করেন।

চার বছরে চার বিচারক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অভিযোগ আদালত আমলে নেওয়ার পর থেকে রায় প্রদান পর্যন্ত চার বছরে চারজন বিচারক পরিবর্তন হয়েছেন। প্রত্যেক বিচারকের ওপর অনাস্থা দিয়ে বিচারক পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সর্বশেষ বিচারকের ওপর অনাস্থা দিলেও আবেদন হাইকোর্টে নামঞ্জুর হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। পরে ওই বিচারকের প্রতি খালেদা জিয়া অনাস্থা জানালে মামলা কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকা বিশেষ জজ আদালত ৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে এ মামলা পরিচালনা করে মামলার প্রায় শেষ প্রান্তে নিয়ে আসেন। যুক্তিতর্কের পূর্বে তিনি খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার প্রতি আনাস্থা জ্ঞাপন করলে তিনি তা নাকচ করে দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত পরিবর্তনে হাইকোর্টে আবেদন করলে ২০১৭ সালের ৮ মার্চ এ মামলা আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে মামলা স্থানান্তর করা হয়। এরপর গত বছরের ৩০ মার্চ থেকে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও অনাস্থা জ্ঞাপন করেন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় এ বিচারক দুদকের কর্ককর্তা ছিলেন এবং তিনি অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। পরে হাইকোটের নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৭ মে পুনরায় মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বর্তমান বিচারক ড. আখতারুজ্জামানকে।

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা:
রমনা থানায় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর রশিদ। এজাহারে টাকা আত্মসাতের (ঘটনার) সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার কার্যদিবস-২৬১ দিন, খালেদা জিয়া হাজিরা দেন ৪৩ দিন, খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আটদিন। গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ রায়ের দিন ধার্য করেন বিশেষ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রায়ের দিন ধার্য -৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • যতক্ষণ প্রাণ আছে জনগণের সেবা করে যাব : প্রধানমন্ত্রী
  • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
  • আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা
  • কোটা পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ বাড়ল ৯০ কর্মদিবস
  • ফল খারাপ করলে বকাঝকা করবেন না: প্রধানমন্ত্রী
  • এইচএসসিতে পাশের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ
  • এইচএসসির ফল প্রকাশ: পাশের হার কমেছে
  • ভাতে-মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী