হিন্দুরা কেন সিঁদুর পরে জানেন?

Share Button

অনলাইন ডেস্ক ::
লাল সিঁদুর হিন্দু নারীদের বৈবাহিক অবস্থান তুলে ধরে। কোনো হিন্দু নারীর মাথায় সিঁদুর পরা থাকলে তিনি বিবাহিত বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে এখন আর সিঁদুর শুধু বিবাহিত জীবনের চিহ্নই বহন করে না, এর আরও অন্যান্য দিকও রয়েছে।

হিন্দু মহিলাদের সিঁথিতে সিঁদুর পরার মধ্যে বেশ কয়েকটি কারণ নিহিত রয়েছে৷

১. সিঁদুর পরলে প্রথম দৃষ্টিতেই বলে দেওয়া যায় ঐ নারী বিবাহিত। তার স্বামী রয়েছে। সে কারণে অন্য পুরুষের লোভাতুর, লোলুপ দৃষ্টি প্রতিহত হয়। হিন্দু নারীরা
বিশ্বাস করেন সিঁদুরে স্বামীর মঙ্গল চিহ্ন রয়েছে।

২. সিঁদুর দেওয়ার সময় নারীরা নিচের দিকে নয়, ঊর্ধ্বায়ণ করে দেন। কেন? সিঁদুর ঊর্ধ্বায়ণের মাধ্যমে নারীরা স্বামীর আয়ু বৃদ্ধির প্রার্থনা করেন।

৩. সৌন্দর্যগত কারণেও সিঁদুর ব্যবহার করেন হিন্দু নারীরা। সিঁদুর পরলে নিশ্চিতভাবেই নারীদের দেখতে আরও সুন্দর লাগে। এ কারণে বর্তমানে অনেক অহিন্দু নারীও সিঁদুর পরেন।

৪. হিন্দু নারীর সিঁদুর পরা নিয়ে সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব ভিন্ন কথা বলে। সেই বিদ্যার বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল বর্ণের সিঁদুর কপালে ধারণ করার অর্থ জড়িয়ে রয়েছে আদিম উর্বরাশক্তির উপাসনার মধ্যে। হিন্দু ধর্ম বলে আজ যা পরিচিত, তার উৎস এক কৌম সমাজে। সেখানে গাছ, পাথর, মাটি ইত্যাদিকে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হত। আর তাদের কাছে লাল রংটি ছিল সৃষ্টির প্রতীক। সেই আদিম কাল থেকেই লাল সিঁদুরকে ভারতীয়রা বেছে নেন তাঁদের একান্ত প্রসাধন হিসেবে। বিবাহিতা মহিলাদের ললাটে কুঙ্কুম তাঁদের সন্তানধারণক্ষমতা হিসেবেই বর্ণনা করে।

৫. শাস্ত্র অনুযায়ী, লাল কুঙ্কুম শক্তির প্রতীক। মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। ললাটে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৬. কপালে সিঁদুর প্রয়োগেরও কিছু বিধি শাস্ত্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়৷ জানা যায়, তর্জনি দিয়ে সিঁদুর পরলে শান্তি পাওয়া যায়। মধ্যমা দিয়ে ধারণ করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল কালি মিশিয়ে রাঙিয়ে তোলা হত। কুঙ্কুমচর্চার কেন্দ্রবিন্দুটি হল আজ্ঞাচক্র। এখানে সিঁদুর প্রয়োগে আত্মশক্তি বাড়ে। নারীকে ‘শক্তি’ হিসেবেই জ্ঞান করে হিন্দু পরম্পরা। কুঙ্কুম বা সিঁদুর তাঁদের আজ্ঞাচক্রে প্রদানের বিষয়টি সেই কথাটিকেই মনে করিয়ে দেয়।