দেবহাটায় আমে মিশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল

Share Button

দেবহাটা প্রতিনিধি ::
বাজারে বিষমুক্ত আম সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও অনেকাংশে তা মানা হচ্ছে না। অধিক মুনাফা লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অপরিপক্ক আম পকানোর জন্য ব্যবহার করছে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল।

দেবহাটার উপজেলার আশেপাশে বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ী ঘর নির্মান করে আম সাজিয়ে রেখে গোপনে এই ক্যামিকেল মিশানো হচ্ছে। ক্যামিকেল মেশানোর একদিন পর দেবহাটা বাজার, শ্রীপুর বাজার,গাজীরহাট বাজার, পারুলিয়া খেজুর বাড়িয়া,ঈদগাহ বাজার, কুলিয়া বাজার, বহেরা বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসব আম কার্টুনে ভরে ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। দেশব্যাপী সাতক্ষীরার জেলার আমের সুখ্যাতি থাকায় ক্যামিকেল দিয়ে পাকানো এসব আম কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। পড়ছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে বিষমুক্ত আম সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে আমে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল না মিশিয়ে বাজারজাত করতে পারে সে জন্য সচেতনাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়িমিত বাজার পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আসায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাগান থেকে অপরিপক্ক আম পেড়ে দ্রুত পাকানোর জন্য ক্ষতিকারক ক্যামিকেল ব্যবহার করছে।

সকালে বাগান থেকে পাড়ার পর দুপুরে দিকে এসব আম দেবহাটার আশে পাশে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে এনে মাটিতে বিছানো কাগজ কিম্বা পলের উপর রেখে স্প্রে করা হচ্ছে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল। এতে করে অপরিপক্ক আমে দ্রুত রং চড়ে যাচ্ছে। পরে দেবহাটা বাজার,শ্রীপুর বাজার,গাজীরহাট বাজার, পারুলিয়া খেজুর বাড়িয়া,ঈদগাহ বাজার, কুলিয়া বাজার, বহেরা বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসব আম কার্টুন কিম্বা প্লাষ্টিকের ক্যারেটে ভরে সন্ধ্যায় ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

দেবহাটা উপজেলার এলাকার খোলা মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে স্প্রে করার জন্য আম সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। গোবিন্দ ভোগ, হিম সাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালীসহ বিভিন্ন আমের সেখানে রাখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রির আশায় অপরিপক্ক আম গাছ থেকে পেড়ে ক্যামিকেল মিশিয়ে জেলার বাইরে পাঠাচ্ছে। কিছু গাছে পাকা আম দেখা গেলেও অধিকাংশ রয়েছে অপরিপক্ক। জিজ্ঞাসা করতে একজন ব্যবসায়ী জানান, আমের আটা শুকানোর জন্য এভাবে রাখা হচ্ছে। এখানে আমে কোন ক্যামিকেল মিশানো হয় না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী জানান, আম সাজানোর পরেই রং চড়ানোর জন্য একটা ঔষধ স্প্রে করা হবে। পরে সন্ধ্যায় ক্যারেটে ভরে ঢাকায় পাঠনো হবে এই আম। তবে এসব আম শহরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা বাজার ছেড়ে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ এলাকায় আম পাকানোর এ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, সচেতন মহলের দাবী আমে যাতে কোন অসাধু ব্যবসায়ী আর ক্ষতিকারক ক্যামিকেল না মেশোতে পারে সেজন্য প্রশাসন যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জসীমউদ্দীন জানান, চলতি মৌসুমে দেবহাটা উপজেলায় ৩ শত ৮০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এবারও ইউরোপের বাজারে আম রপ্তানী হচ্ছে।

এবিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল-আসাদ বলেন, বিদেশের বাজারে দেবহাটার উৎপাদিত আমের সুনাম ধরে রাখতে আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে গত ১০ মে বৃহস্পতিবার আলোচনা করা হয়েছে এবং আমে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল মিশানো বন্ধ করতে আম ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার পর্যবেক্ষন জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এক আম ব্যবসায়ীকে আমে ক্যামিকেল মেশানোর অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • দেবহাটায় বীরমুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
  • দেবহাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যান চালক নিহত
  • অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষক আটক
  • দেবহাটা উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা
  • দেবহাটায় সুবিধাভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরন
  • দেবহাটায় প্রতিবন্ধীদের সেবার মানউন্নয়নে সভা
  • দেবহাটায় উন্নত জাতের হাঁস বিতরণ
  • দেবহাটায় বকনা বাছুর বিতরণ