তারাবির নামাজ না পড়লেও কি রোজা হবে?

Share Button

রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। পড়লে সওয়াব হবে না পড়লে গুণাহ হবে। একটি কথা মনে রাখবেন, সকল ইবাদতের মূল হচ্ছে নামাজ।

নামাজ ছাড়া কোন ইবাদতই কবুল হয় না তাই অন্তত্ব ফরজ নামজ (যেগুলো অবশ্যই পালনীয়) সেগুলো আদায় না করলে গুণাহ হবে। তারাবির নামাজ ফরজ না তবে রমজানে এটি পড়া ভাল তবে এটি ফরজ নামাজের মত বাধ্যতামূলক না।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাগুলো ফরজ করেছেন এবং এর রাতে তারাবি নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’ তিনি তার সাহাবীদের নিয়ে তিন রাত্রি তারাবীহ আদায় করেছেন। উম্মতের উপর ফরজ হয়ে যেতে পারে এ আশঙ্কায় পরেরদিন তিনি আর জামাতের সাথে তারাবীহ আদায় করেননি।

মুসলমানগন আবু বকর (রা:) এর খেলাফত কাল ও উমর (রা:) এর খেলাফতের প্রথম দিকে এ অবস্থায়ই ছিল। এরপর আমীরুল মুমিনীন উমর (রা:) প্রখ্যাত সাহাবী তামীম আদদারী (রা:) ও উবাই ইবনে কাআব (রা:) এর ইমামতিতে তারাবীর জামাতের ব্যবস্থা করেন। যা আজ পর্যন্ত কায়েম আছে। আলহামদুলিল্লাহ! এ তারাবীর জামাত শুধু রমজান মাসেই সুন্নাত।

তারাবী নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা জরুরি সুন্নত যা আদায় করা না হলে গুনাহ্‌ হবে। ২০ রাকাত, ১৬ রাকাত অথবা ৮ রাকাত করে আদায় করা যায় শারীরিক বা মানসিক সামর্থ্য বিবেচনা করে ।

রোজা হবে কিন্তু তা পরিপূর্ণ হবে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাতে ২০ রাকাত করে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। তৃতীয় রাতে লোকজন এক্ত্র হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত হননি। পরদিন সকালে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের ওপর তারাবির নামাজ ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছি। তখন তা তোমাদের জন্য কষ্টকর হতো।’

‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রোজা রাখেন, তারাবির নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তাঁর জীবনের আগের সব গুনাহ মাফ করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)