ফেসবুকে আসছে ‘ব্রেকিং নিউজ’

Share Button

ভুয়া খবর, রাজনৈতিক প্রভাব রুখতে বিতর্কিত ‘ট্রেন্ডিং’ ফিচারটিকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক।

শনিবার (২ জুন) ফেসবুক এ ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা দিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, ‘ট্রেন্ডিং’ ফিচারটি পুরোনো হয়ে গিয়েছে। ৪ বছর ধরে চলার পর দেখা যাচ্ছে এটি এখন আর তেমন জনপ্রিয় নেই। এছাড়া এই বিভাগের জন্য ফেসবুকে ভুয়া খবর, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। তাই এবার এটি বরাবরের জন্য উঠিয়ে দিতে চায় কোম্পানি।

২০১৪ সালে ট্রেন্ডিং সেকশন চালু করে ফেসবুক। সেখানে খবরের আপডেট ও হেডলাইন দেওয়া হত। টুইটার থেকে মানুষকে টানার এটি ছিল ফেসবুকের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

মাত্র এক বছর আগে ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ বলেছিলেন, ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের ‘ব্যক্তিগত সংবাদপত্র’।

কিন্তু তখন ভুয়া খবর সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু মার্কিন মুলুকে নির্বাচনের সময় ফেসবুকের বিরুদ্ধে তথ্য চুরি অভিযোগ ওঠায় এখন অনেক সচেতন হয়েছে সংস্থাটি। এবার ট্রেন্ডিং নিউজের সেকশনটি খতম করে ব্রেকিং নিউজ সেকশন চালু করতে চলেছে ফেসবুক। এই বিভাগে খবর আপলোড করা যাবে এবং যারা আপলোড করবে তারা ছাড়া বাইরের কেউ তার উপর কোনও কাটাছেঁড়া করতে পারবে না।

ট্রেন্ডিং সেকশন ফেসবুককে সমস্যায় ফেলে ২০১৬ সাল থেকে। অভিযোগ ওঠে, ফেসবুক ক্রমশ তার নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। রক্ষণশীল খবরগুলোকে একেবারেই জায়গা দিচ্ছে না তারা। উলটে উদারনৈতিক চিন্তাধারাকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিচ্ছে। কোনও সংস্থার পক্ষে এমন অভিযোগ ওঠা মানে ব্যবসায় প্রভাব পড়া। এনিয়ে জুকারবার্গ কোম্পানির হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠার দু’বছর পরও ফেসবুক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়নি। ২০১৬ সালে ফেসবুক তার এডিটরদের ট্রেন্ডিং টপিক সেকশন থেকে সরিয়ে তাদের সফটওয়্যার সেকশনে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ট্রেন্ডিং নিউজ নিয়ে আরও একটি জরুরি পদক্ষেপ নেয় ফেসবুক। যেসব টপিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম করেছে, একমাত্র সেগুলিকেই ট্রেন্ডিংয়ে এনে ফেলে। একটি মাত্র সংবাদমাধ্যম কোনও খবর করলে সেটি ফেসবুকের কাছে ভুয়া খবর বলে ধার্য হত। কিন্তু তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি।

তাই এর পরিবর্তে নতুন তিনটি সেকশন আনতে চলেছে ফেসবুক। প্রথমটি “ব্রেকিং নিউজ”। এর জন্য ৮০টি পাবলিশারের সঙ্গে কথা বলেছে তারা। এগুলি উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার পাবলিশার। সেখান থেকে ব্রেকিং নিউজ নিয়ে আপাতত পরীক্ষামূলক ভাবে চালাবে ফেসবুক।

দ্বিতীয়টি, “টুডে ইন”। এই সেকশনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি থেকে সেদিনের ব্রেকিং ও গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখা যাবে। প্রতিটি খবরের আপডেটও পাওয়া যাবে এখানে।

তৃতীয়টি, “নিউজ ভিডিও ইন ওয়াচ”। এটি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। এখানে কোনও ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হবে।