এমপিওভূক্ত না হওয়ায় কলারোয়ায় ডিগ্রি শিক্ষকরা যাতাকলে

Share Button

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশের মতো সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে বিষয়ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেসরকারি কলেজে চাকরি নিয়ে সরকারের এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব শিক্ষক পড়েছেন বিপাকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে যে নীতি, তার বিপরীত নীতিতে চলছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। দ্বৈত এ নীতির জালে বন্দি কলারোয়ার ৬টি কলেজের প্রায় অর্ধ শত শিক্ষক ও অর্ধ শত কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু মানবেতর জীবনযাপন-ই নয়, জীবনযুদ্ধের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিগ্রি পর্যায়ে পাঠদান করা প্রতিটি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক পদাধিকারবলে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ভিত্তিক প্রথম শিক্ষক। এর পর ডিগ্রি পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া ২জন শিক্ষক। সহজ করে বলতে গেলে এমপিওভূক্ত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের নিয়োগকৃত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পর ডিগ্রি স্তরে নিয়োগ পাওয়া ১ম শিক্ষক (টোটাল ২য় শিক্ষক) এমপিওভূক্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেই শিক্ষকও বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। আর যথারীতি এর বাইরে থাকছেন কলেজের ৩য় শিক্ষক বা ডিগ্রিতে নিয়োগ পাওয়া ২য় শিক্ষক।

বেসরকারি কলেজগুলোয় তাদের ডিগ্রি কোর্স পরিচালনায় প্রতি বিষয়ে দুটি পদ থেকে তৃতীয় পদেও নিয়োগ নেয়া হয় শিক্ষক। সরকারের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এই স্তরে প্রতি বিষয়ে দু’জন করে শিক্ষক (উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ পাওয়া ও ডিগ্রি স্তরে নিয়োগ পাওয়া ১মজন) এমপিওভুক্ত হবেন। তবে সেক্ষেত্রেও কলারোয়া উপজেলা ৬টি কলেজের ডিগ্রি স্তরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আজো এমপিওভূক্ত হতে পারেন নি।

আবার নীতিমালার ক্ষেত্রেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। সর্বশেষ নীতিমালার সময় ডিগ্রির কোর্স ছিলো ২বছরের। ডিগ্রির ১ম ও ২য় বর্ষ পড়াশুনা করে ২বছরের মাথায় গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতো শিক্ষার্থীরা। আর গত ৪/৫বছর ধরে সেই নিয়ম পাল্টে গিয়ে ডিগ্রির কোর্স হয়েছে ৩বছরের। আর প্রতি বছরেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে পাশ-ফেলের বিষয়টি জড়িত।

জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলারোয়া উপজেলা সদরের বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ, সোনাবাড়িয়া সোনারবাংলা কলেজ, কাজিরহাট কলেজ, ছলিমপুর হাজি নাছিরউদ্দীন কলেজ ও ধানদিয়া বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রি পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষকরা ডিগ্রি স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। ওই সকল কলেজগুলোতে আবার অফিস সহকারী ও পিয়ন দিয়ে প্রায় অর্ধ শত কর্মচারী রয়েছে।

দীর্ঘদিন বেতনভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে বরাবরই সংশ্লিষ্টরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন ওই সকল শিক্ষকদের।

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ও সম্মানে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার একমাত্র কলেজ কলারোয়ার বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি স্তরের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক শেখ মো.আলকামুন জানান- ‘সরকারের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ২জন এমপিওভূক্ত হওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর ডিগ্রি পর্যায়ের ১ম শিক্ষকরাও এমপিও বঞ্চিত হচ্ছেন। বরাদ্দ না থাকা, দীর্ঘসূত্রিতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তরের চিঠি চালাচালি তো রয়েছেই। পাশাপাশি ডিগ্রিস্তরের শিক্ষকদের এমপিও করার ক্ষেত্রে এমপিওভূক্ত উচ্চমাধ্যমিক কলেজগুলোর স্তর পরিবর্তন বা কোড পরিবর্তন করা হয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। সেই কোড পরিবর্তন করার ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম উদাসীনতা। বছরের পর বছর কোড পরিবর্তন না করা কিংবা উদ্যোগ না নেয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ডিগ্রির শিক্ষকরা। অথচ ওই শিক্ষকদের পাঠদানে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না তাদেরই শিক্ষকরা।’

ডিগ্রি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সব শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ডিগ্রি কোর্স পরিচালনাকারী বেসরকারি কলেজগুলোকে প্রতিটি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে। এটি না হলে ঠিকমতো পাঠদান নিশ্চিত হবে না। এমপিওভুক্তির বিষয়টি সরকারের, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। তিনি বলেন, এসব শিক্ষককে এমপিও দেবে কিনা সরকার, সেটি দেখবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান- সরকার ডিগ্রি কলেজগুলোর প্রতি বিষয়ে দুজন শিক্ষককে এমপিও সুবিধা দিচ্ছে। তৃতীয় পদে যারা নিয়োগ নিয়েছেন, তারা এমপিও পাবেন বা পাবেন না এর কোনোটাই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লে তাদের বিষয়টিও সরকারের দৃষ্টিতে থাকবে। শিক্ষার বাজেটের অধিকাংশ অর্থই ব্যয় হয় শিক্ষকদের এমপিও খাতে।

তবে তিনি বঞ্চিত ডিগ্রি শিক্ষকদের এমপিওভূক্ত’র বিষয়টি সুনিশ্চিত করে জানাননি।

কলারোয়ার এমপিও বঞ্চিত ডিগ্রি শিক্ষক-কর্মচারীরা অবিলম্বে তাদের এমপিওভূক্ত করণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊচ্চ মহলের কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • একাদশে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশ
  • ইবির আবাসিক হল বন্ধ ১১ জুন
  • এনইউবিটি খুলনাতে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল
  • নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনাতে মাদক বিরোধী সেমিনার
  • নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই স্কুল এমপিওভুক্তি: শিক্ষামন্ত্রী
  • শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
  • সড়ক দূর্ঘটনায় ইবির বাস