রুশ-চীন সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি শি-পুতিনের

Share Button

চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং গতকাল বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের চলমান সম্পর্কের প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের এ সাক্ষাৎ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন বাঁকের সূচনা করতে পারে। খবর এএফপি।

দ্য গ্রেট হল অব পিপলে দুই নেতার সাক্ষাতের আগে রুশ নেতাকে গার্ড অব অনার এবং শিশুদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়।

সাক্ষাতে শি পুতিনকে বলেন, আন্তর্জাতিক অবস্থার যত পরিবর্তনই হোক না কেন, চীন এবং রাশিয়া সবসময়ই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। এছাড়াও দুটি দেশ সবসময়ই পরস্পরের মূল আগ্রহগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং ‘অভিন্ন উদ্দেশ্যে একটি সম্প্রদায়’ গঠনের জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে।

চীন এবং রাশিয়ায় গত কয়েক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতা শি এবং পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং নীতিকে আঘাত করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে।

পুতিন জানান, দুই নেতার মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক মৈত্রীর, প্রতিবেশীসুলভ এবং তারা কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেতনায় সম্পর্কোন্নয়ন করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুই নেতাই একই ধরনের নেতৃত্বশৈলী অনুসরণ করেন। কার্নেগি মস্কো সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো আলেক্সান্ডার গাবুয়েভ বলেন, শি এবং পুতিন আত্মার বন্ধু, যারা তাদের নিজ নিজ দেশকে আবার মহান করতে চান। দুজনেই মার্কিন আধিপত্যবাদের প্রতি অবিশ্বাসী, দুজনেই মার্কিন মনোভাবগুলোকে সন্দেহ করেন এবং দুজনেই কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তিত্বের শাসক। মার্চে পুতিন চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। একই মাসে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি শিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে যে আইনি বাঁধা ছিল তা তুলে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানোর জন্য বর্তমানে চীন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে সিরিয়া ও ইউক্রেনসহ বেশকিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর গভীর মতানৈক্য চলছে।

চলতি সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএনে এক সাক্ষাত্কারে শির সঙ্গে ‘ভালো বন্ধুত্বের’ কথা জানান পুতিন। তিনি বলেন, শিই একমাত্র রাষ্ট্রীয় নেতা, যিনি তার সঙ্গে জন্মদিন পালন করেন এবং দুজনে ভদকা ও সসেজ ভাগাভাগি করেন।

সিজিটিএনকে পুতিন বলেন, শি সহজগম্য এবং নিষ্ঠাবান। তবে একই সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য তিনি খুবই নির্ভরযোগ্য একজন মানুষ।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফরমেশন স্টাডিজের মারিয়া রাপনিকোভা মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে নৈকট্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেইজিং সফরের পর পুতিন আজ শির সঙ্গে চীনের পূর্বাঞ্চলের শহর কিংগাদোতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

আঞ্চলিক এ নিরাপত্তা সংস্থায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে চীন ও রাশিয়া। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে গঠিত সংস্থাটিতে সাবেক সোভিয়েতভুক্ত কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ছাড়াও গত বছর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগদান করেছে ভারত ও পাকিস্তান।

সিজিটিএনকে পুতিন বলেন, যখন সংস্থাটি গঠিত হয়, তখন এর উদ্দেশ্য ‘ছোট’ হলেও এখন এটি একটি বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

এসসিওর পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা অন্যতম দেশ ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও দুই শীর্ষ বিশ্বনেতার সঙ্গে সম্মেলনটিতে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজের দেশকে প্রত্যাহার করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়া ও চীন উভয়েই চুক্তিটি সুরক্ষার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • আফগানিস্তানে ঈদের জামাতে আইএসের হামলায় নিহত ২৬
  • কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জাতিসংঘের
  • মেসি-নেইমারের চেয়ে দুর্দান্ত ফুটবলার এরদোগান
  • চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প-কিম
  • সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিমের সাক্ষাৎ
  • আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় নিহত ৪২
  • উত্তর ইরাকে হামলা চালাতে প্রস্তুত তুরস্ক