হলি অার্টিজানে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা

Share Button

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের নৃশংস জঙ্গি হামলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ। হলি আর্টিজানের এ হামলা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা।

রোববার সকাল ৯টা থেকে নিহতদের স্বজনরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাদের স্মরণ করছেন। এ ছাড়া জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

হলি আর্টিজান হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। যেসব এলাকায় এমন জঙ্গি হামলা হয়, সেই জায়গাগুলোতে হামলার বর্ষপূর্তিতে আবারও হামলা হওয়ার নজির শঙ্কা থাকে। তাই হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, জঙ্গি হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এদিকে বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হলি আর্টিজানে হামলার দুই বছরে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া এ হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম স্মরণে গুলশানের ১১৫ নম্বর সড়কে নির্মিত ‘দৃপ্ত শপথ’ নামে ভাস্কর্যেরও উদ্বোধন করবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারী জঙ্গিরা। ওই দিন রাতেই তারা দেশি-বিদেশি মোট ২০ জনকে হত্যা করে। বিদেশি যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন জাপানের নাগরিক, আর্জেন্টিনার নাগরিক, ইতালির নাগরিক ও ভারতের নাগরিক।

সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

হামলাকারী জঙ্গিরা হলো রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপত্র আমাক হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ব্যবসায়ী শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে অবশ্য তাহমিদকে গুলশান মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশকে অসহযোগিতার মামলা দেয় পুলিশ। সে মামলায় তাহমিদ ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে খালাস পান।

এ মামলায় বর্তমানে ছয় আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, হাদীসুর রহমান সাগর, সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ও মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

এ ছাড়া এ হামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলিতে নিহত হয় মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু রায়হান তারেক, সারোয়ার জাহান, আব্দুল্লাহ মোতালেব, ফরিদুল ইসলাম আকাশ, বাশারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান।

এ বিষয়ে ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য আছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মামলাটি বিচারের জন্য নির্দিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস আজ
  • ভারত-বাংলাদেশ আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে : রাজনাথ সিং
  • সৌদির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে প্রথম হজ ফ্লাইট
  • আজ ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
  • আজ পাবনায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী
  • আন্দোলন স্থগিত করলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা
  • দেশের কারাগারে ফাঁসির আসামি ১৫৯৬ জন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী