ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

Share Button

ক্রীড়া ডেস্ক :: অঘটনের বিশ্বকাপে চমক যেন শেষই হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসেও একই ধারা বজায় আছে। আজ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে ফের চমক দেখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে দাপটের সঙ্গে খেলে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল নিশ্চিত করে। তাতে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। এর আগে একবারই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড, সেটি ১৯৬৬ সালে। সেবার শিরোপা নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল তারা। তারপর থেকেই দ্বিতীয় শিরোপার জন্য তারা হাপিত্যেশ করে মরছে। শিরোপা তো দূরের কথা, আর কখনো তারা ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এবার একটা সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে এবারও তাদের ফাইনালে উঠা হলো না।

ক্রোয়েশিয়া আগামি রোববার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখী হবে। ফ্রান্স এর আগে একবার শিরোপা জিতেছে। সেটি ১৯৯৮ সালে। তবে আগে পরে মিলিয়ে তারা আরও দু’বার ফাইনাল খেলেছে।

আজ ম্যাচের শুরু থেকে অবশ্য ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়ার ওপর চড়াও হয়ে খেলেছে। একের পর এক আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলে। তাতে ৫ মিনিটেই ধরা দেয় সাফল্য। কেইরান ট্রিপারের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার ড্যানিয়েল সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় ক্রোয়েশিয়ার জালে। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

এই গোলে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। তাতে বাড়ে আক্রমণের গতিও। মুহর্মুহু আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে নাস্তানাবুদ করে তুলে তারা। তবে ইংল্যান্ডের কোনো আক্রমণই আর চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। তবে ১৪ ও ৩৬ মিনিটে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন হ্যারি ম্যাগুইরে ও জেসি লিঙ্গার্ড।

মাঝে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করেছিল ক্রোয়েশিয়াও। তবে তারা স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি। ১৯ ও ২৩ মিনিটে নাগালে পাওয়া সুযোগ হাতছাড়া করেন ইভান পেরেসিচ। আর ৪৩ মিনিটে মিস করেন সিমে ভ্রাসালকো।

১-০ গোলের ব্যবধান রেখে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া।এ অর্ধে তারা একের পর এক আক্রমণে ত্রাস ছড়াতে থাকে। তবে সাফল্যের জন্য তাদেরকে ২৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। খেলার ৬৮ তম মিনিটে পেরিসিক উড়ন্ত বলে পা ছুঁইয়ে দিয়ে বল ক্রোয়েশিয়ার জালে পাঠিয়ে দেন। সমতায় ফেরে তারা।

সমতার পর আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া। বেড়ে যায় আক্রমণের ধার। নির্ধারিত সময়ের বাকিটা শুধুই ক্রোয়েশিয়ার ছিল। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে কোনঠাসা করে ফেলে তারা। তবে ইংল্যান্ড গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর দুর্ভাগ্য ক্রোয়েশিয়াকে বঞ্চিত করে। না হয় এই অর্ধে একাধিক গোলের দেখা পেতে পারতো তারা।

১-১ গোলে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হলে তা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। যোগ করা সময়ের ১৯তম মিনিটে গোল করে মানডজোকিক ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেয়। বাকী সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • গোল্ডেন বল জিতেছেন মডরিচ
  • গোল্ডেন বুট জিতলেন হ্যারি কেইন
  • বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপে
  • ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়
  • ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল খেলা আজ
  • তৈয়ব হাসান কিংবদন্তী রেফারি
  • ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় ক্রোয়েশিয়া!
  • স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দল