ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় ক্রোয়েশিয়া!

Share Button

ক্রীড়া ডেস্ক :: বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের মঞ্চে ক্রোয়েশিয়া। সিংহ শিকারী ক্রোয়েটরা এখন ফুটবল রূপকথা লিখতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিটদের তালিকায় ছিল না ক্রোয়েশিয়ার নাম। ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বের সেই দেশটিই এখন বিশ্বসেরা হওয়ার অন্যতম দাবিদার।

যদিও ১৯৯৮ সালে সেমিফাইনাল খেললেও ক্রোয়েশিয়াকে কিন্তু পরের আসরগুলোতে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০০২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে তারা বিদায় নিয়েছিল গ্রুপপর্ব থেকেই। ২০১০ সালে র‌্যাঙ্কিয়ে শীর্ষ দশে থাকলেও বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপে খেললেও ক্রোয়াটদের বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে।

এবার তারা ছাড়িয়ে গেছে ১৯৯৮ সালের সাফল্যকেও। এই প্রথমবারের মতো লুকা মদ্রিচ, ইভান রাকিটিচরা ক্রোয়েশিয়াকে তুলে এনেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে।

যদিও মেসি-রোনালদো আক্রান্ত ফুটবল দুনিয়া ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে ভাবেনি। ভাবেনি স্টারলিং, পেরিসিচ, লুকা মরডিচ, রেবিচ, মানজুকিচ কিংবা রাকিটিচকে নিয়ে। তাদের পায়ে জাদু আছে সেটা খেয়াল রাখেননি মেসি-নেইমারে অন্ধ হয়ে থাকা ফুটবল দুনিয়া। কিন্তু সেই সব মহাতারকারা অনেক আগেই রাশিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে খসে পড়েছেন বলেই সবার কণ্ঠে একটাই কথা শোনা গিয়েছিল: ‘বিশ্বকাপটা শেষ হয়ে গেল।

মেসি চলে গেল। রোনালদো চলে গেল। শেষ পর্যন্ত নেইমার ছিল, সে-ও চলে গেল। তাহলে কেনই বা আর বিশ্বকাপ ফুটবল দেখব?’ তবে হতাশাগ্রস্ত ফুটবল দর্শকদের জ্যোতিষীর কাছে যেতে হয়নি।

ক্রোয়েশিয়ার মরডিচ, মানজুকিচ, রেবিচদের ফুটবল শৈলী মুখ ফিরিয়ে নেয়া দর্শকদের কাছে টেনে নিয়েছে। টিভির পর্দায় বসিয়ে দিয়েছে তাদের। এখন ঘরে ঘরে প্রশংসা ক্রোয়েটদের। কী তেজই না দেখালেন মরডিচরা! ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও গোল শোধ করে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ২-১ গোলে ইংল্যান্ড সিংহদের রীতিমতো বিড়াল বানিয়ে দিলেন!

সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড চেয়েছিল নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন ইতিহাস উপহার দিতে। কেননা ৬৬ বিশ্বকাপে ট্রফি জয়ের পর আর কখনো ফাইনালের টিকিট পায়নি ইংলিশরা। এবার ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্সকেও বধ করার স্বপ্ন দেখেছিল তারা! পৃথিবীটাকে যেভাবে শাসন করেছিল, সেভাবেই ফুটবল দুনিয়ার ১২০ গজের মাঠও শাসন করতে চেয়েছিল! কিন্তু খেলাটা যে পায়ের। মেধার। শিল্পের। সেখানেই হেরে গেল ইংলিশ সিংহরা।

১৫ জুলাই ফ্রান্সকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো নয় শুধু, বিশ্বকাপে নতুন চ্যাম্পিয়ন হবে ক্রোয়েশিয়া। স্বাধীনতার ২৭ বছরের ব্যবধানে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলবে তারা।

নিখুঁত ফিনিশিং দেয়ার শৈল্পিক কাজটা তাদের শিখিয়েছেন কোচ জলাতকো দালিচ। ছিলেন সৌদি আরব, আরব আমিরাতের ক্লাব ফুটবলের কোচ। ক্রোয়েশিয়া থেকে অনেক দূরেই ছিলেন তিনি। এই কোচ দালিচকে নিয়ে এলেন ক্রোয়েশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সাবেক ফুটবল তারকা ডেবর সুকার। দায়িত্ব দিলেন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল দলের। আর দালিচের হাত ধরেই ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের ধরন পাল্টে গেল। মিলল একর পর এক সাফল্য।

আগামী রোববার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল। ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়েশিয়া দলে আছেন ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ পাওয়া চার ফুটবলার। যাদের অভিজ্ঞতা অনেক। যা দিয়ে ফ্রান্সের মতো দলকে বধ করার মতো ক্ষমতা রাখে ক্রোয়েশিয়া। সৃষ্টি করতে পারে ফুটবল ইতিহাসে নতুন রূপকথা!






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • তৈয়ব হাসান কিংবদন্তী রেফারি
  • স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দল
  • ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া
  • বেলজিয়ামের স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ফ্রান্স
  • সেমিফাইনালে কবে কার প্রতিপক্ষ কে
  • এই তরুণীর জন্যেই রাশিয়ার হার!
  • স্বাগতিকদের হৃদয় ভেঙ্গে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া