বিমানবন্দরে নামতেই কন্যাসহ গ্রেপ্তার নওয়াজ শরীফ

Share Button

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নানা নাটকীয়তার পর গ্রেপ্তার করা হল পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে। গতকাল স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাহোরের আল্লামা ইকবাল বিমানবন্দরে মেয়ে মরিয়মসহ নওয়াজকে গ্রেপ্তার করে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) কর্মকর্তারা। এসময় তাদের পাসপোর্টও জব্দ করা হয়। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাদেরকে বিশেষ বিমানে করে ইসলামাবাদে নেয়া হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এনএবি’র হেফাজতে ছিলেন। কেন্দ্রীয় কারাগারের নেয়ার আগ পর্যন্ত তাদেরকে ইসলামাবাদের সিহালা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের রেস্ট হাউজে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার রেস্ট হাউজকে ‘সাব জেল’ ঘোষণা করে নোটিশ দেন।

এদিকে, ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়েছেন পিএমএল-এন দলের হাজারো নেতা-কর্মী। তারা ইসলামাবাদ থেকে রাওয়ালপিন্ডি যাওয়ার সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করছিল। সেখানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে প্রয়োজনে যে কোন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নওয়াজ ও মরিয়মকে হাজির করা থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে এনএবি’র প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর জেনারেল সরদার মুজাফফর আব্বাসী তাদেরকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ‘সাব-জেলে’ রাখার অনুমতি প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিম আহমেদ নওয়াজ ও তার মেয়েকে সাব জেলে আটকে রাখার আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের ফলে এনএবি অভিযুক্তদেরকে যতদিন প্রয়োজন সাব জেলে আটকে রাখতে পারবে। তাদেরকে আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রেও কোন বাধ্য-বাধকতা থাকলো না।

জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, নওয়াজকে বহনকারী বিমান আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য বিমানে ওঠেন। তারা নওয়াজ ও তার মেয়ে ছাড়া অন্য সব যাত্রীকে বিমান ত্যাগ করার অনুরোধ করেন। এর পর মেয়েসহ নওয়াজকে আটক করে এনএবি কর্মকর্তারা। এসময় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) কর্মকর্তারা নওয়াজ ও মরিয়মের পাসপোর্ট জব্দ করেন। পরে বিমানবন্দরের হজ লাউঞ্জে নওয়াজ শরীফকে তার মা বেগম শামীম আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়। দ্রুতই তাদেরকে হেলিকপ্টার বা ছোট বিমানে চড়িয়ে ইসলামাবাদে নেয়া হয়। সেখান থেকে সড়কপথে তাদের রাওয়ালপিন্ডির জেলে নেয়া হবে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়িয়ে জেলে নেয়ার জন্য সেখানে হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে মরিয়ম বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় তারা এনএবি’র কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেন। লাহোর ও ইসলামাবাদের বিমানবন্দরে পুলিশের পাশাপাশি এনএবি’র দু’টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোন ধরণের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন এনএবি চেয়ারম্যান জাভেদ ইকবাল। তিনি বলেন, যারা পিএমএল-এন প্রধানকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে, তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। তবে লাহোরে সমবেত পিএমএল-এন নেতা-কর্মীরা বলছেন, নওয়াজকে স্বাগত জানাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

অনলাইন ডনের খবরে বলা হয়, তিন ঘন্টা বিলম্বের পর মেয়েকে নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। রাত পৌনে নয়টার দিকে লাহোরের আল্লামা ইকবাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমান। তাকে গ্রেপ্তার করতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাখে পুলিশ। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয় প্রায় ৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। নওয়াজকে স্বাগত জানাতে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে লাহোরে জড়ো হন পিএমএল-এন নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ পাকিস্তানে পৌঁছার কথা ছিল নওয়াজ শরীফের। কিন্তু আবুধাবিতে প্রায় ৩ ঘন্টা ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ার কারণে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার পরে নওয়াজকে বহনকারী বিমান পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের বিমানটি পৌনে নয়টার দিকে পাকিস্তানে অবতরণ করে। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরীফকে ১০ ও মেয়ে মরিয়মকে ৭ বছরের কারাদ- দেয় পাকিস্তানের একটি আদালত। এ মাসের ২৫ তারিখে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নওয়াজের দল পিএমএল-এন দাবি করেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্যই নওয়াজকে নজিরবিহীনভাবে এ সাজা দেয়া হয়েছে। নওয়াজের দাবি, তিনি সেনাবাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি জানি যে, আমাকে সরাসরি জেলে নেয়া হবে। পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমি আপনাদের জন্যই দেশে ফিরছি। আমার যাত্রায় শামিল হোন, হাতে হাত রাখুন এবং দেশের গতিপথ বদলে দিন।’ নওয়াজ শরীফ একটি বিমানের সিটে বসে ওই ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। তবে ভিডিও চিত্র ধারণের সময় তিনি কোথায় অবস্থান করছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। পরে নওয়াজের মেয়ে মরিয়ম নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আবুধাবি বিমানবন্দরে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন।

এদিকে, পিএমএল-এন এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই শাহবাজ শরীফ অভিযোগ করেছেন, নওয়াজ শরীফের পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তার দলের শত শত কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে তার দলের ওপর নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নওয়াজের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে তার হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক লাহোরের বিমানবন্দরে হাজির হবেন। তার ভাষায়- ‘গোটা বিশ্ব জানে যে, পিএমএল-এন চক্রান্তের শিকার। এর পরেও আমরা বিমান বন্দরে যাবো। আমরা পুরোপুরি শান্তিপূর্ণভাবে নওয়াজকে স্বাগত জানাবো।’






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • জাপানে বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৯
  • তুরস্কে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০
  • পিকেকে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইরাকে অভিযান চলবে: এরদোগান
  • দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরীফকে ১০ বছর কারাদণ্ড
  • তুরস্কে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে ডিক্রি জারি
  • ট্রাম্পের অনুরোধে অতিরিক্ত তেল উৎপাদনে সৌদির সম্মতি
  • ইরানের আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে ইসরায়েল!