সোমবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন জি.এম সৈকত

আর্ত মানবতার কল্যাণের ব্রতি নিয়ে গঠন করা হলো মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন। গত পরশু দিন সংগঠনটির রেজিষ্ট্রেশন পেল। বাংলাদেশে অসহায় ও অসুস্থ্য মানুষের কল্যাণে কাজ করা এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। আর এই রকম একটি মহৎ সংগঠনের চেয়ারম্যান হলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ শিল্পী ঐক্যজোটের সাধারন সম্পাদক নাট্যনির্মাতা জি.এম সৈকত। সৈকত বলেন, আল্লাহ মহান। মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। এত বড় মহান দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। খুব শিঘ্রই ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু করবো। বিশেষ করে আমার নিজ জেলা সাতক্ষীরার জন্য ভালো কিছু কাজের পরিকল্পনা আছে। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

আজ ১০ জানুয়ারি, জাতির জন্য অবিস্মরণীয় একটি দিন। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন ভূখন্ডে এই দিন পা রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানে সাড়ে ৯ মাসের কারাবাস শেষে ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এদিনই ফিরে আসেন স্বাধীনতার স্থপতি ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। সেই থেকে দিনটি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই এ বিজয় পূর্ণতা পায়। জাতির পিতা তার এ প্রত্যাবর্তনকে দেখেছিলেন ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে কারাগারে আটক করে রাখে।পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ মাথানত করেনি বাঙালি। গড়ে তোলে প্রতিরোধ। শুরু হয় হানাদারদের বিরুদ্ধে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধ।

বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। তার অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ সাংগঠনিকভাবে পরিচালনা করেন ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে খ্যাত এ সরকারের নেতৃত্বে মরণপণ যুদ্ধে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয়ের লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রবল জনমত গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে অবিসংবাদিত এই নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিশ্বনেতারাও তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দেয়।

শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। এদিন তাঁকে ও কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তাঁরা পৌঁছান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে। সকাল ১০টার পর থেকে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে তিনি পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।

১০ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লিতে। শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং অন্যান্য অতিথি ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন।

বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাঁদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি তাঁকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকেল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

নয় মাসের যুদ্ধের একপর্যায়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের পথে মুক্তিযোদ্ধা, জনতা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ তীব্র হয়। জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হয় প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হলে পাকিস্তানি বর্বর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিতে।

১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্যের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এ মহান নেতার অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা। দিনটিকে ঘিরে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন আজ বৃহস্পতিবার নানা কর্মসূচি পালন করবে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন। সারাদেশে দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দোয়া-মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আয়োজিত আলোচনা সভাসহ সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি

আগামী ৩০ জানুয়ারি (বুধবার) শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ওই দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।

সংসদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম ও বছরের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।

সংবিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে রাষ্ট্রপতির ওই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব জানাতে সাধারণ আলোচনা হয়।

আবার চলতি সংসদের কোনো এমপি মারা গেলে অধিবেশন শুরুর পর মুলতবি কর হয়। তাই অধিবেশন শুরুর পর মরহুমকে নিয়ে আলোচনার পর সংসদের বৈঠকের কিছুক্ষণ মুলতবি দেয়া হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭৪ অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। এ জন্য কমপক্ষে এক ঘণ্টা পূর্বে নোটিশ দিতে হয়। একজন প্রস্তাবক, একজন সমর্থক ও প্রার্থীর সম্মতি লাগে।

সংসদের ডেপুটি সচিব নাজমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও প্রথম অধিবেশনে সভাপতিমন্ডলি মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব; অধ্যাদেশ উত্থাপন(যদি থাকে), সংসদীয় কমিটি গঠন (যদি থাকে), সংবিধান বা আইন অনুযায়ী কোনো রিপোর্ট উপস্থাপন (যদি থাকে) ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকে।

আন্দোলনের নামে সহিংসতা হলে ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি ও আচরণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। নির্বাচন নিয়ে তারা যেকোনো ধরনের কর্মসূচি দিতে পারে। তবে আন্দোলন যদি সহিংসতার পথে যায় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার পথে আজ বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ক্যামেলিয়া ফেরিতে যাত্রার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, যারা ১০ মিনিটও আন্দোলন করেনি, তারা এখন আবার কী করবে? তারা যদি আইনি পথে যায়, তাহলে আমরা লিগ্যাল-ব্যাটল করব। যদি রাজনৈতিক আন্দোলনে যায়, তাহলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তারা যদি সহিংসতা ও নাশকতার পথে যায়, তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে ও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাদের নতুন করে বিশ্বাস করার কিছু আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, আমরাও করি না। যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, তারা ভবিষ্যতেও সফল হবে বলে মনে হয় না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে যাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাব ও ফুল দেব। নতুন মন্ত্রিসভা এখন কী করবে, আমাদের অঙ্গীকার ও আগামী দিনের কর্মসূচিই এখন বড় বিষয়।

রাখাইনের বিদ্রোহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ সু চির

মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহীদের ‘গুঁড়িয়ে’ দিতে বলেছেন সরকারের প্রধান অং সান সু চি। দেশটির সেনাবাহিনীকে তিনি এই নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে সরকারের একজন মুখপাত্র।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সু চি। এ সময় তিনি মিয়ানমার পুলিশের ওপর বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিদ্রোহীদের দমন করতে বলেন।

২০১৭ সালে উত্তর রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালানোর পর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান শুরু করে। এরপর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। রাখাইনে ফের অভিযান চালালে ব্যাপক পরিমাণ শরণার্থী বাংলোদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরাকান আর্মি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে স্বায়ত্তশাসন দাবী জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রাজ্যটিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করছে বলে দাবী করে।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতেই বলেন সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিয়ান্ত এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লেইং, তার সহকারি এবং সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানসহ সেনাবাহিনীর নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা পররাষ্ট্র এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জানান তিনি।

রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের কারনে সু চি’র পক্ষে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্ভব নয় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট সেনাবাহিনীর প্রতি অনুগত। সু চি বেসামরিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা এবং কিন্তু সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবার বিদ্রোহী আরাকান আর্মি চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে ১৩ জন পুলিশকে হত্যা এবং নয় জনকে আহত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। ওইদিন মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস ছিল।

আইপিএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালো ভারত

কোথায় হবে আইপিএল? হলেও কবে থেকে হবে? ভারতে হবে নাকি অন্য কোন দেশে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল কোটি কোটি আইপিএল ফ্যান। মিলিয়ন ডলার ক্রিকেট শো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল ভারতের ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই। মঙ্গলবার এই নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিসট্রেটর।

জল্পনার অবসান। ভারতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল যে, লোকসভা নির্বাচনের জন্য আইপিএল ভারতের মাটি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার আইপিএলের গর্ভনিং কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স জানিয়ে দেয় যে, দেশের টুর্নামেন্ট দেশেই থাকছে। বিদেশে যাচ্ছে না। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর এও জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০১৯ আইপিএল শুরু হবে ২৩ মার্চ থেকে।

বিসিসিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার সঙ্গে প্রারম্ভিক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার দ্বাদশ সংস্করণ ভারতেই অনুষ্ঠিত হবে।’

যদিও এই বৈঠকে আইপিএলের নির্ঘণ্ট ও সূচি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। টুর্নামেন্টের সব অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মনে করা হচ্ছে যে, লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ক্যারাভান ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট হবে। সেক্ষেত্রে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিক টুর্নামেন্টে রদবদল হতে পারে।

শেষবার ২০১০ সালে আইপিএল মার্চে শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে এই টুর্নামেন্ট বরাবরই এপ্রিলের প্রথম দিকটায় শুরু হয়ে মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলেছে। আগামী ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হবে পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ ইভেন্টের কথা মাথায় রেখেই আইপিএল এগিয়ে আনা হয়েছে। বিসিসিআইয়ের নতুন সংবিধান অনুযায়ী ভারতের আন্তর্জাতিক সফর শুরু হওয়া আর আইপিএল শেষের মাঝে ১৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে। লোকসভা নির্বাচনের জন্য অতীতে দু’বার আইপিএল ভারত থেকে সরেছিল। ২০০৯ সালে আইপিএল হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০১৪ সালে আইপিএলের ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও অনুষ্ঠিত হয়।

শীতে ত্বকের যত্নে বিশেষ পানীয়

শীতকালে ত্বকের যত্ন নেয়ার সময় পান না অনেকেই। কিন্তু যত্নের অভাবে শীতে ত্বক যেমন শুষ্ক হয়, তেমনই তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও হারিয়ে যায়।

রূপবিশেষজ্ঞ মতে, ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের শুষ্কতা দূর করে তাকে উজ্জ্বল করে তুলতে বিশেষ একটি পানীয় খাওয়া যায়। যে কোনো ধরণের ত্বকের জন্যই এই পানীয় কার্যকরি। কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় এই পানীয় জেনে নিন।

উপকরণ

ত্বকের যত্নের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এই পানীয় বানাতে প্রয়োজন দুইটি গাজর, একটি কমলালেবু, একটি বিট, একটি টমেটো এবং একটি লেবু।

প্রণালি

গাজর ও বিট সেদ্ধ করে নিন। এবার কমলালেবুর বীজ বের করে সব উপাদান ব্লেন্ড করে নিন। এতে যোগ করুন একটু লবণ ও আদা।

প্রতিদিন সকালে এই বা বিকেলে খালি পেটে এই পানীয় খেলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন। গাজরের ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন ত্বকের জ্বালাপোড়া রোধ করে। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের টক্সিনকে বের করে।

বিট ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে ও দাগ দূর করে। আর লেবু প্রাকৃতিক স্ক্রাবার যা ত্বকের মৃতকোষ সরিয়ে তাকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে।

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, এই পানীয় এতটাই কার্যকর যে বিয়ের আগে হবু কনে দ্রুত সুন্দর ত্বক পেতে শীতের এই সময়ে তার খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শিগগিরই চাকরিতে বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ক্যাডার সার্ভিসের সমতা বিধান ও সরকারি চাকরিতে বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ফরহাদ হোসেন এসব কথা বলেন। এছাড়া প্রশাসনে ক্যাডার বৈষম্য নিরসনসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মতো নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মেহেরপুর-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফরহাদ হোসেন।

সচিবালয়ে আসার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফরহাদ হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বরণ করে নেন নতুন প্রতিমন্ত্রীকে।

জনপ্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকারী এ মন্ত্রণালয়কে কতটা শক্ত হাতে সামলাতে পারবেন- এমন প্রশ্নে ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, আমার মাথার উপর আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আশা করি তার সহযোগিতায় সবগুলো বিষয়ই আমরা ‍সুন্দরভাবে দেখতে পারব, এখানে কোনো সমস্যা হবে না। প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তা বাস্তবায়ন করাটাই হচ্ছে আমার কাজ। কারণ এটার পূর্ণমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানন্ত্রী চান এই প্রশাসন অত্যন্ত গতিশীল হবে, অত্যন্ত দক্ষ হবে এবং জনবান্ধব হবে, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত জনপ্রশাসনের সেবাগুলো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে পেতে পারে। সেজন্য আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা আছে, সেটা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ হবে।

জনপ্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ বলেন বলেন, আমাদের কাজে যদি কোনো অন্তরায়, বাধা বা ত্রুটি থাকে, তবে প্রথম কাজ হচ্ছে সেগুলো দূর করা। সাংবাদিকরা ত্রুটিগুলো তুলে ধরলে আমরা অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপের ভিত্তিতে সমাধান করব। মানুষের তো ভুল-ত্রুটি কিছু থাকে। এখন অনেক স্মার্ট অফিসার আছেন। ভালো ব্যুরোক্রেসি ছাড়া তো ভালো ও উন্নত দেশ সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী সুনিপুণভাবে চিন্তা করছেন যাতে আমরা ভালো ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারি।

ফরহাদ বলেন, আমি দশম সংসদের একজন সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার এলাকা থেকে যারা ক্যাডার সার্ভিসে আছেন তারা আমার কাছেও অভিযোগ-অনুযোগ করেছিলেন, আমি যাতে এ বিষয়ে সংসদে অবদান রাখি। বিষয়গুলো নিয়ে আমিও অবহিত আছি। প্রধানমন্ত্রীও অনেকগুলো সলিউশন ইতোমধ্যে দিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেগুলো বাকি আছে আগামীতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটা সমতা ও সকলের মধ্যে যাতে একটা সুসম্পর্ক থাকে সেই বিষয়টি অবশ্যই দেখব।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নতুন সরকার নেবে- তা জানতে চান একজন সাংবাদিক। উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব এটা হবে। যখন এটা ঘোষণা করা হয়েছে এর মানে অনেক চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা করেই ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেন সেটা করেন। আমরা চাইব খুব দ্রুত এটা হয়ে যাবে।

গেইল মিশন শুরু আজ!

ক্রিস গেইল মানেই বিশাল সব ছক্কা। সেই তিনি কিনা বিপিএলে থেকেও নেই! দুই ম্যাচ ড্রেসিংরুমে কাটিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় রংপুর রাইডার্সের এ হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

রংপুরের জার্সিতে দ্বিতীয়বার বিপিএল খেলতে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছেন ক্যারিবিয়ান ‘ব্যাটিং দানব’। কিন্তু উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে আসতে পারেননি তিনি। যে কারণে প্রথম দুই ম্যাচে একাদশের বাইরে ছিলেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে গেইলকে।

সোমবার মিরপুরের একাডেমিতে কঠোর অনুশীলন করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আধ ঘণ্টার মতো একাডেমির নেটে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও কোচ টম মুডির সঙ্গে খানিকক্ষণ কথা বলতেও দেখা গেছে তাকে। হয়তো কুমিল্লা ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা সেরে নিয়েছেন তারা।

ইরান নিয়ে ট্রাম্প মিথ্যা স্বপ্ন দেখছেন: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন দাবি করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। একইসঙ্গে দেশটি বলেছে, ট্রাম্প কেবল একটি মিথ্যা, অসম্ভব ও অপূরণীয় বিষয় নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি আজ বলেন, চলমান বাস্তবতার সঙ্গে ট্রাম্পের অলিক স্বপ্নের কোনো সম্পর্ক নেই।

গতকাল (রোববার) ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান ভালো অবস্থায় নেই। তারা এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।” ট্রাম্প দাবি করেন যে তেহরানের ওপর তার দেয়া নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।

কাসেমি বলেন, ট্রাম্প জানেন যে ইরান বহু বছর ধরেই আমেরিকার চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে আসছে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের জানা উচিত যে মার্কিন চাপের কাছে ইরানি জাতি কখনোই নতি স্বীকার করবে না। অন্ততপক্ষে সব মার্কিন শাষকদের কাছে যারা পারস্পরিক সম্মানের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ব্রিজের উপর দেয়াল দেয়াকে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, ইরানি জাতি তাদের নানা সমস্যা-সঙ্কুল কিন্তু গর্বিত ইতিহাসে এটা শিখেছে যে কিভাবে বলদর্পী এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরকে পরাজিত করতে হয়। সূত্র- পার্সটুডে।