সোমবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব দুর্যোগ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ। ‘কমাতে হলে সম্পদের ক্ষতি, বাড়াতে হবে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও দুর্যোগের সঠিক পূর্বাভাস প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়াও আবশ্যক।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনুসরণীয় মডেল হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছে।’ দুর্যোগকালীন ক্ষয় ক্ষতি প্রশমনে সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাত প্রশমনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই দেশে ৩১ লক্ষাধিক তালগাছ বীজ বপন করা হয়েছে। জাতীয় বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত নিরোধক দন্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সর্বপ্রথম তিনিই মুজিব কিল্লা নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগে জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।’

তিনি (বঙ্গবন্ধু ) ১৯৭৩ সালে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ প্রতিষ্ঠা করেন যা দুর্যোগ সতর্কবার্তা প্রচার ও সাড়াদান কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলেও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দিবসটি পালন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে `টকশো`, সড়কদ্বীপ সজ্জা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি রয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী রবিবার পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এর রেল সংযোগের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করতে রোববার পদ্মা সেতু এলাকায় যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে রোববার মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, শরিয়তপুরের জাজিরা ও মাদারিপুরের শিবচর এলাকায় যাবেন। খবর বাসসের।

সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী “পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের” আওতায় ঢাকার সাথে যশোরের রেল লিংক রোডের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টার দিকে প্রথমে মাওয়ায় কাজের অগ্রগতি দেখবেন। এরপর ঢাকা-মাওয়া ও পাচর-ভাঙ্গা ৮ লেনের সড়কের কাজের অগ্রগতি দেখবেন এবং মাওয়ার দিকে রেল লাইন লিংকের কাজের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী এরপর স্থায়ী নদী শাসন কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। মাওয়া দিকের সেতুর সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মাওয়া গোল চত্বরে এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন।

পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিবচরে যাবেন এবং ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার জাজিরার নওয়াডবা এলাকা পরিদর্শন করেন।

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শনিবার পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসার কথা ছিলো। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা পরিবর্তন করে রোববার পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।”

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উভয় পাশে ৬০ ভাগ কাজের অগ্রগতির ফলক উন্মোচন করবেন।
তিনি বলেন, জাজিরা পয়েন্টে ৫টি এবং মাওয়া পয়েন্টে ১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আরো ৫টি স্প্যান বসানোর কাজ চলছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘পদ্মা ব্রিজ রেল লিঙ্ক কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ জাজিরা ও শিবচর হয়ে মাওয়া ও ভাঙ্গার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন করবে। আর পদ্মা বহুমুখী সেতুর মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

চীন সরকার মনোনীত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি. চীন জিটুজি পদ্ধতির আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ব্যাপারে চীন এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড সেতুপথ নির্মিত হবে।

এই সেতুপথে একাধিক লিফটসহ দুটি প্লাটফর্ম, একটি মেইন লাইন ও দুটি লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতু নির্মাণ ও রিভার ট্রেইনিং কাজের উদ্বোধন করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নয়া দিগন্তের সূচনা হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। শুধু তাই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

তারা আরো জানান, এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহের লোকদের দীর্ঘ ভোগান্তি লাঘব হবে। দেশের অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের যাত্রার সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা কমে যাবে। কংক্রীট ও ইস্পাত কাঠামোয় তৈরি দুই স্তরের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন আর নীচ দিয়ে চলবে রেল।

সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার নিজস্ব তহবিলে দেশের সর্ববৃহৎ ‘পদ্মাসেতু’ নির্মাণ করছে। মূল সেতু, নদী শাসন, দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণসহ ৫ ভাগে সম্পন্ন হচ্ছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ।

এই সেতুতে থাকবে মোট ৪২টি পিলার। এগুলোর প্রতিটি ৬টি পাইলের ওপর দন্ডায়মান থাকবে। পিলারগুলোর ওপরে বসানো হবে ইস্পাতের স্প্যান। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে।

নদী শাসন কাজে নিয়োগ করা হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনকে এবং দুট এপ্রোজ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লি.। এই সেতুর নির্মাণ কাজ তদারক করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন এন্ড এসোসিয়েটস।

এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এত দ্রুত উন্নয়ন করতে পারেনি অন্য কোনো দেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মতো এত দ্রুত অন্য কোনো দেশ উন্নয়ন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ২০টি জেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৩৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘জাতির পিতা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছি।’

আমরা দিনবদলের ঘোষণা দিয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিনবদলের যাত্রা শুরু করেছি। এখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি।’

সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর বিষয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়েছি। যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছি। প্রযুক্তির জ্ঞান বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল সেন্টার করে দিচ্ছি। মানুষ তথ্য প্রযুক্তির সেবা পাচ্ছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

জন্মদিনেও স্টেজে নাচবেন অপু

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। ঢাকাই ছবির অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা তিনি। আজ এ নায়িকার জন্মদিন। নায়িকা হবার পর অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের জন্মদিন যেন একটু বেশিই ব্যস্ততায় কাটছে বলে জানালেন অপু বিশ্বাস। বিশেষ দিনের  শুরুর প্রহরেই সন্তান আব্রাম খান জয়কে সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন তিনি।

এরপর রাত থেকেই সবার শুভেচ্ছায় ভাসছেন এ নায়িকা। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও তাকে সবাই উইশ করে পোস্ট করছেন। বিকেলে অপু ভক্তরা প্রিয় নায়িকাকে নিয়ে কেক কাটার আয়োজন করেছেন বলে সমকাল অনলাইনকে জানালেন এ নায়িকা।

এক সময় অপু বিশ্বাস জন্মদিনেও চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এখন সময় বদলেছে। হাতে আগের মতো চলচ্চিত্রের শুটিং ব্যস্ততা নেই। তাই স্টেজ শো করেই ব্যস্ত সময় কাটান এ নায়িকা। তার ধারাবাহিকতায় বিশেষ এ দিনটিতেও স্টেজ শো’তে নাচার শিডিউল দেয়া অপুর।

দিনভর জন্মদিনের আয়োজন শেষে সন্ধ্যায় ইভান শাহরিয়ার সোহাগের কোরিগ্রাফিতে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের সঙ্গে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউসনে একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বলে জানান অপু বিশ্বাস।

শ্রীলঙ্কায় ভারী বৃষ্টিতে ১২ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯ হাজার মানুষ

শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহের শেষ দিন থেকে বয়ে যাওয়া ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন ও ৬৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) বৃহস্পতিবার একথা জানায়।

ডিএমসি’র মুখপাত্র প্রদীপ কোদিপ্পিলি বলেন, বৃষ্টি কমে আসলেও ভূমিধসের আশঙ্কায় নিরাপদে আশ্রয় নেয়া মানুষদের বাড়ি না ফিরতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিম্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ নদীগুলোর পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এগুলো দুকূল উপচে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। খবর সিনহুয়া’র।

কোদিপ্পিলি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় কালুকারা জেলায় ভূমিধসের রেড এলার্ট বহাল রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

সাহায্যের প্রয়োজনে ও আটকে পড়া মানুষদের জন্য একটি জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে ডিএমসি। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় শুকনা খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে প্রসিডেন্টে মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আশ্রয় শিবির ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের শুকনো খাবার, খাবার পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্যানসার থেকে বাঁচতে খান আঙুর

ফুসফুস ক্যানসারের হাত থেকে বাঁচাতে পারে আঙুরের স্কিন, দানা ও রেড ওয়াইন৷ এমনই জানাচ্ছেন গবেষকরা৷ প্রত্যেক বছরই বহু মানুষ মারণ রোগটির কবলে পড়ে প্রাণ হারান৷ যার মধ্যে ৮০ শতাংশ স্মোকিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত৷

যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ শুধু তাই নয়, নেশার কবলে পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারালেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়েনি৷ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, সিমেনার বিরতিতে ধূমপান নিয়ে সর্তকতা দেখা গেছে৷ অন্য একটি গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, বেশিরভাগ কলেজ পড়ুয়ারাই আবার একাধিক নেশায় আসক্ত৷ যার মধ্যে গাঁজা, সিগারেট অন্যতম৷

ফুসফুস ক্যানসারের বিষয়টি নিয়ে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চলানো হয়৷ এক গবেষক জানাচ্ছেন, পরীক্ষিত প্রত্যেকটি ইঁদুরের মধ্যে টিউমারের ৪৫ শতাংশ প্রবণতা কমেছে৷ পরীক্ষার বাইরে থাকা ইঁদুরগুলির মধ্যে কিন্তু কোনোরকম উন্নতি দেখা যায়নি৷ ইঁদুরগুলোকে মোট চারটি গ্রুপে ভাগ করে গবেষকরা ২৬ সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা চালান৷ যেখান থেকেই সামনে আসে তথ্যটি৷ একই পদ্ধতি মানবদেহের জন্যও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন গবেষকরা৷

১৫ অক্টোবর পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ল আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় সর্বশেষ খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল আদালত।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এ জামিনের আবেদন করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। এছাড়া দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

উল্লেখ্য, এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দেন। চার মাস শেষে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় ২৬ জুলাই, তৃতীয় দফায় ৩১ জুলাই, চতুর্থ দফায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত, পঞ্চম দফায় ৩ অক্টোবর এবং ষষ্ঠ দফায় ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করেন হাইকোর্ট। এবার সপ্তমবারের মতো এ মামলায় বর্ধিত জামিন পেলেন খালেদা জিয়া।

কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশের পর গত ৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র কারণে উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ উপলক্ষে সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

মায়া বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ঘূর্ণিঝড়টি সকালে ভারতের আঘাত হেনেছে। আমাদের এখানে আঘাতহানার আশঙ্কা ছিল। ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ওড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। এতে ওড়িষ্যায় দুইজন নিহত হন।

ওড়িষ্যা থেকে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ আকারে এটি বাংলাদেশে আসবে। ফলে উপকূলীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর সতর্কতা দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৯

নাশকতা এড়াতে সাতক্ষীরায় বিশেষ অভিযানে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতা-কর্মীসহ ৬৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পযর্ন্ত সাতক্ষীরা জেলার আটটি থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৫ জন, কলারোয়া থানা থেকে ১৩ জন, তালা থানা থেকে চারজন,কালীগঞ্জ থানা থেকে চারজন, শ্যামনগর থানা থেকে ১৭ জন, আশাশুনি থানা থেকে ছয়জন, দেবহাটা থানা থেকে ছয়জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

তিতলি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত সাতক্ষীরার প্রশাসন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় সাতক্ষীরায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, দুর্যোগ মোকেবেলায় আশাশুনি উপজেলায় দেড় হাজার ও শ্যামনগর উপজেলায় দুই হাজার একশ সিপিপি সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। উপকূলীয় এলাকায় সকল মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনগণকে সতর্ক করতে প্রচারাভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ৩৩টি পয়েন্ট মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কালিন্দী, মাদার, চুনকুড়ি, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবাটী খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, বুধবার দুপুর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ভাঙনকবলিত এলাকায় থেকে ভাঙন রোধে কাজ করছেন।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, সারা দেশে ৪নং সর্তকতা সংকেত জারি রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আঘাত হানতে পারে। তবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা তেমন ঝুঁকির মধ্যে নেই। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।