সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে অনুমতি লাগবে

271

সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বিশেষ এখতিয়ারে জনস্বার্থে অনধিক ১০ শতাংশ পদে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদে জনবল নিয়োগের বিধান রেখে এই আইন চূড়ান্ত করা হয়।

জানা গেছে, পূর্বে রাষ্ট্রপতির কোটায় সচিব পদে ১০ শতাংশ জনবল নিয়োগ দেয়া হত। এছাড়া কোনো কর্মচারি ফৌজদারি অপরাধের কারণে এক বছরের অধিক মেয়াদে কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে রাষ্ট্রপতি যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণকৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ বরখাস্ত বা অপসারণ থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিশেষ কারণ বা পরিস্থিতি রয়েছে- তা হলে তিনি ওই ব্যক্তিকে ওই শাস্তি থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে ওই কর্মচারি পুনরায় চাকরিতে বহাল হবেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ লাভের একমাত্র মানদণ্ড ও ভিত্তি হিসেবে মেধা এবং উম্মুক্ত প্রতিযোগীতা স্থির করা হয়েছে। পদোন্নতির মানদণ্ড ধরা হয়েছে কর্মচারির মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ এবং সন্তোষজনক চাকরি। তবে সন্তোষজনক চাকরির কোনো সংজ্ঞা নেই। উল্লিখিত বিধিবিধান রেখে সরকারি কর্মচারি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

সরকারি চাকরি আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন কোনো ব্যক্তিকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ করা যাবে না। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্যিকভাবে পদের বেতন, কর্মপরিধি, নিয়োগ পরীক্ষার ধরণ, বিষয়, নম্বর বিভাজন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নূন্যনতম নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নহে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে না।

যে সব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মকমিশনের কিংবা সরকারিভাবে গঠিত কমিটির সুপারিশ নেয়া বাধ্যতামূলক, তা প্রতিপালন ব্যতিরেকে ওই সব পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কাউকে পদোন্নতি দেয়া যাবে না।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও সরকারি কর্মচারি আইন ঘষামাজা করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া তৈরি করে তা আইন আকারে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আইন প্রণয়নের ইতিহাসে এটি নজীরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন খোদ জনপ্রশাসনের কর্মচারিরাই। তারা বলছেন একটি আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে এত টাকা খরচের কোনো ঘটনা আইন প্রণয়নের ইতিহাসেই নেই।

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত সব আইনের খসড়া তৈরি ও যাচাই বাচাই হয় মন্ত্রণালয়ের বিধি ইউং থেকে। এমন কী অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা আইনের খসড়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলে তা বিধি ইউং থেকেই দেয়া হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ রহস্যজনক কারণে সরকারি কর্মচারি আইন প্রণয়নের জন্য একটি প্রকল্প করা হয়েছিলো। ওই প্রকল্পটি রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এন্ড ট্রেনিং(সিপিটি) ইউংয়ের আওতায় গত বছর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু অনুমোদন লাভের পরও আইনটি আলোর মুখ দেখেনি।

শেয়ার করুন ..