‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানের নামে মুসলিমদের ওপর দমন পীড়ন করছে চীন

226

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা এককেন্দ্রীকরণের ইচ্ছার ফলে দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত দমন পীড়নের কারণে দেশটির আচরণ বিশ্বের উদ্বিগ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীন বেশ কয়েকটি ধর্মকে বিদেশিদের ধর্ম বলে মনে করে এবং আক্রমণাত্মকভাবেই তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানের মাধ্যমে এসব ধর্মের পুনর্গঠনের ভিত্তিতে দেশটি একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে চাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইব্রাহিমীয় ধর্মগুলো এই শুদ্ধিকরণের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, চীনের মুসলিমদের একটি বৃহৎ অংশকে দেশটির কর্মকর্তারা তথাকথিত রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক করে রেখেছে। জাতিসংঘে দেয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশের প্রায় এক মিলিয়ন উইঘুর মুসলিম এই কেন্দ্রে আটক আছে।

কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে আসছে, চায়না মূলত এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তারা এসব অভিযোগকে ‘মানহানিমূলক রটনা’ বলে অভিহিত করছে। বেইজিং দাবি করছে, তারা মূলত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করে এসব অঞ্চলকে ‘চায়না সিরিয়া’ বা ‘চায়না লিবিয়া’র মত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে উদ্যোগ নিয়েছে।

তথাপিও দেশটিতে চলমান মুসলিম ওপর দমন পীড়ন এ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক চীন সংখ্যলঘুদের ধর্মকে সহ্য করতে পারছে না।

সুরের মরীচিকা

কিছু কিছু এমন জনপ্রিয় ভাবনা রয়েছে যে, চায়নাকে একটি কর্তৃত্বশীল প্রশান্তিময় দেশের সাথে তুলনা করা যায়। এতকিছুর পরেও আধুনিক চীনকে স্থিতিশীলতার দূর্গ মনে হয় যেটি একটি কুমিউনিস্ট রাষ্ট্র হিসাবে আপতত বিরোধী সত্য হিসাবে বিশ্বে সবচেয়ে সফল পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে প্ররিণত হয়েছে।

কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই এশিয়ার এই জাতিটি অর্থনৈতিক দুরাবস্থাকে কাটিয়ে বৈশ্বিক সুপার পাওয়ার হিসাবে আবির্ভুত হয়েছে। দেশটি তার মিলিয়ন মিলিয়ন নাগরিককে দারিদ্রতার নিম্ন সীমায় রেখে বিশ্ব বাজারে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চলছে।

গত কয়েক দশক ধরে চীনে মুসলিমদের অধিবাসী হয়ে আসার কারণে একে প্রতিহত করার জন্য বেইজিং তাদের ওপর দমন পীড়ন শুরু করে, এমনকি এর কয়েকটি ছিল সশস্ত্র দমন পীড়ন।

২০০৯ সালে হান এবং উইঘুরদের মধ্যে সৃষ্ট এক দাঙ্গায় বেশ কয়েকজন নিহত এবং প্রায় ১৮৪ জন মারাত্মক ভাবে আহত হন। এসব অঞ্চল সরকারের এ ধরনের নীতি সেখানে মৌলবাদী দল যেমন ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট(ইটিআইএম) দলের উত্থানে সহয়তা করছে যারা বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছে।

২০১৩ সালে চীনের রাজধানীর তিয়েনামেন স্কায়ারে আগত দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্য করে উইঘুর অঞ্চলের কয়েকজন মানুষ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আক্রমণ চালায়। এর পরপরেই দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে কয়েকটি হামলা চালানো হয় এবং দাবি করা হয় দেশটির সরকার অনুগত এক ইমামসহ অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

একই বছর দেশটির কুনমিং অঞ্চলের নাগরিকদের উপর উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকেরা সেখানকার বেশ কয়েকটি স্থানে চুরি চালিয়ে নাগরিকদের আহত করে এবং এর ফলে দেশটির সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কঠোর দমন পীড়ন

এসব আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় চীনের কমিউনিস্ট সরকার যারা দেশের চরম উন্নয়ন করে বৈধতা পেয়েছে, সংখ্যালঘুদের দমনের জন্য কঠোর পন্থা অবলম্বন করা শুরু করে। এরই অংশ হিসাবে ধর্মীয় গোষ্ঠীকে আটক রাখার জন্য তথাকথিত ‘রাজনৈতিক দীক্ষা’ কেন্দ্র চালু করে।

দ্যা গ্লোবাল টাইমস তাদের কয়েকটি সংখ্যায় বলে, চীন সরকার তাদের এমন দমন নীতির সমালোচনার বিরুদ্ধে দাবী করছে, উইঘুর মুসলিমদের ওপর কড়াকড়ির আইনগত বৈধতা রয়েছে। তারা জিনজিয়াং প্রদেশকে চরমপন্থীদের ‘মন্দ প্রভাব’ ফলে সৃষ্ট অশান্তি থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বলে জানায়।

বিভিন্ন সমালোচনা বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনার জবাবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায় ‘সমালোচকরা জিনজিয়াং প্রদেশের চলমান সমস্যা দীর্ঘায়িত করতে চায় এবং তারা চীনের কষ্ট্রে অর্জিত স্থিতিশীলতাকে নস্যাৎ করতে চায়।’ রাষ্ট্রায়াত্ব একটি খবরের কাগজ দাবী করে যে, ‘চীন সরকার সমস্যা গ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেখানে বিভিন্ন জাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীন সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যগত হুই মুসলিমদের উপরেও দমন পীড়ন শুরু করেছে। সম্প্রতি সরকার ওই অঞ্চলের একটি মসজিদ ধ্বংশ করার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ব্যাপক প্রতিবাদ এবং হুই মুসলিমদের ব্যাপক বিক্ষোভের ফলে সরকার এ মসজিদ ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

সম্প্রতি কাজাখাস্তানের একটি আদালত চীনা-কাজাখ বংশোদ্ভুত একজন চীনা নাগরিককে কাজাখাস্তানে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় দিতে আদেশ জারি করে ‍যিনি চীনের তথাকথিত ‘রাজনৈতিক

শেয়ার করুন ..