আশাশুনির পঙ্গু ভিক্ষুক ধীরেন মন্ডলের দুর্গতি লাঘবে কেউ এগিয়ে আসেনি!

396

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ঃ হতদরিদ্র সহায় সম্বলহীন পঙ্গু ধীরেন মন্ডল সব কিছু হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে। মাথা গুজার জন্য নিজের একখন্ড জমি না থাকায় ভাইপোর জমিরে এককোনে ছোট্ট ঘরে ঠাই হয়েছে তার। বিগত ৭ বছরের একদিনও তার ঘরে কোন রান্নাবান্নার সুযোগ হয়নি। খেয়ে না খেয়ে ভিক্ষের জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়ান তিনি।

আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের (হামকুড়া) কচুয়া গ্রামের মৃত মঙ্গল মন্ডলের পুত্র ধীরেন মন্ডল। বয়স ৮০। তার কোন সন্তান নেই, নেই কোন আয়ের উৎস। তাই ভিক্ষে করে দিনযান করতে হয় তাকে। প্রতিদিন সকালে দুটি লাঠিতে ভর করে কাদকাটি বাজার হতে ভিক্ষে শুরু করেন তিনি। বেশী পথ চলার ক্ষমতা নেই তার। প্রতিদিন একই ব্যক্তিকে আর কতজন ভিক্ষে দিতে পারে। অসহায় ধীরেন কাঁদকাদ ভাঙ্গা স্বরে বলেন, “শুনিছি সরকার বয়সকোর ভাতা দিছে। কোই, মেম্বর চেয়ারম্যানকো কাছে গেতো ভাতা পালাম ন্্া। আমি ভিক্ষে করে খাই, তাও টেহা দিমু যদি যদি একটা ভাতা কাড পাইতাম ? বড্ড কষ্টে আছি। সব রাত কানতে কানতে শেষ হোয়ে যায়। জগতে কি কোন মানুষ নেহি আমারে দেখতে পারে?” তার প্রশ্ন ও আক্ষেপের জবাব দেওয়ার ভাষা কারো নেই। অনেকে শান্তনার বাণী শুনিয়ে তাকে বিদায় দিয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে ধীরেন দা দুটি লাঠি নিয়ে বাজারে যায়। যাকে পায় তার কাছে গিয়ে বলে, বাবা বড় কষ্টে আছি দ্ওেনা কিছু একটু পানি খাই। যদি কোন মানুষ দয়া করে কিছু দিলে তাই খায়। না দিলে অন্যজনের কাছে গিয়ে ভিক্ষে কামনা করে। পঙ্গু ধীরেনের ১ কিলো মিটার পথ যেতে লাগে কমপক্ষে ২ঘন্টা। ধীরেন মন্ডল জানান, সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা তিনি পাননি। এমনকি ঈদের ১০ কেজি কিংবা ২০ কেজি চাউলও তার ভাগ্যে জোটেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় তার নামে খবরে কাগজে খরব হয়ছিলো। উপজেলা কর্মকর্তারা তাকে খোজ নিয়াছিলেন। কিন্তু কিছুই দেওয়া হয়নি। তার স্ত্রী সতিরানী মারা গেছেন প্রায় ৭ বছর আগে। সেই থেকে তাার ঘরে কোন দিন আগুন জ্বলেনি। বাকী জীবনে জ¦লবে কিনা তিনি জানেননা। অসহায় ধীরেনের শেষ জীবনে একটু শান্তি ফিরিয়ে দিতে সরকারি ভাবে, কিংবা কোন এনজিও বা সমাজের ধণি মানুষেরা এগিয়ে আসবেন কি?

শেয়ার করুন ..