নওগাঁর মান্দায় একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শাহ কৃষি জাদুঘর ও লাইব্রেরী

277

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা (নওগাঁ)ঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রত্যান্ত পল্লীগ্রামে গড়ে উঠেছে ‘শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও কৃষি জাদুঘর’। এটি এখন এ উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দেখতে আসছেন বিনোদন প্রেমীরা। কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য দিন দিন যে নতুন যন্ত্রপাতি উদ্ভাবিত হচ্ছে এতে করে কৃষির পুরনো সেই হাতিয়ার গুলো আজ বিলুপ্তির সম্মূখীন। অনেক প্রাচীনকালের ও কিছু কয়েক দশক আগের কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি এ কৃষি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বিলুপ্তি প্রায় ওইসব কৃষি উপকরণ দেখে পর্যটকরাও উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষি প্রধান বৃহত্তর নওগাঁ জেলার বৃহত্তম মান্দা উপজেলা সদর প্রসাদপুর বাজার থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালীগ্রাম গ্রাম। গ্রামে প্রবেশ পথে তীর চিহ্ন দিয়ে জাদুঘরে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। ২০০৮ সালে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহ ব্যক্তি উদ্যোগে ৩ বিঘা জমির উপর নির্মান করেছেন ‘শাহ কৃষি জাদুঘর ও কৃষি লাইব্রেরী’। সেখানে প্রবেশ পথে বড় একটি লোহার দরজা। এরপর সুন্দর করে ফুলের গেট করে সাজানো রয়েছে অর্ভথনা গেট। আর এ গেটের ভীতর দিয়ে প্রবশে পথ। গেটে প্রবেশের বাম দিকে কৃষি জাদুঘর এবং ডান দিকে কৃষি লাইব্রেরী। আর এরপর আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছ।

সেখানে নয়টি ঘরের মধ্যে একটি করে জাদুঘর, লাইব্রেরী, গোলাঘর, খাবার ঘর, হেসেল ঘর ও অতিথিদের শোবার ঘর আছে ৪টি। কৃষি লাইব্রেরীতে কৃষি বিষয়ের উপর বিভিন্ন ধরনের বই সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছ আছে প্রায় দেড় শতাধিক। লাইব্রেরী দেখাশুনা জন্য রয়েছে জোসনা খাতুন এবং বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছে আজাহার হোসেন ও হযরত আলী নামে দুইজন কর্মী।

কৃষি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে কৃষি সরঞ্জামাদি- বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ি, গরুর গোমাই, মাথাল, ঢেঁকি, মই, নাঙ্গল, জোয়াল, পানি সেচের যাত, পালকি, নৌকা, কোদাল, কাস্তে, ঝাড়–, দাউল, দিদা, তৈল ভাঙা ঘানি, বায়োস্কোপ, বাশেঁর তৈরী টোপা, মাছ ধরার যন্ত্র, ধান রাখার মাটির তৈরী বড় বড় হাড়ি (মটকি), ধান মাড়াই মেশিন, কীটনাশক স্প্রে মেশিন, শ্যালো মেশিন, গোলাঘর (ধান রাখার স্থান) সহ আরো অনেক কিছু।

কৃষি তথ্য পাঠাগার থেকে কৃষকরা বই পড়ে তাদের ফসলের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। কৃষি বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন হলে এলাকায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে কৃষকদের দেখানো হয়ে থাকে। এতে করে কৃষকরা খুব সহজেই কৃষি বিষয়ে নতুন বিষয়ে ধারনা পেতে পারেন। এছাড়া ছোটদের জন্য রয়েছে গল্প ও ছড়া বই।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে জাদুঘরে স্বপরিবারে কালীগ্রাম গ্রামে বেড়াতে আসছেন আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, গ্রামের এক আত্মীয়র বাড়ীতে বেড়াতে আসছি। শুনলাম এখানে কৃষি জাদুঘর আছে। শুনেই জাদুঘরটি দেখার ইচ্ছা পোষন করলাম। আমার ছেলে মেয়েরা তো জানেনা, কৃষিতে কি যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্বচোখে তারা এ জাদুঘরে এসে সরঞ্জামগুলো দেখতে পেলো। এখান থেকেও তাদের অনেক কিছু শিখার আছে। আগামী প্রজন্মরা হয়তো কৃষি সরঞ্জাম দেখতে পাবেনা। কিন্তু এ জাদুঘরে আসলে কিছুটা ধারনা পাবে।

শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগারের পরিচালক শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহ বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে কৃষি বিষয়ে জানতে এবং বই পড়তে হবে। আর এ অভাব থেকেই এ পদক্ষেপ নেয়া। লাইব্রেরী তৈরী করার পর বুঝতে পারলেন যে নিজের অভাবই এখন অনেকের মধ্যে বিদ্যমান। আমার স্বল্প জায়গায় কিছুটা হলেও তা সংরক্ষন করতে পেরেছি। কৃষি বিষয়ে কৃষকের মাঝে যে অভাব রয়েছে তা এখন উপলদ্ধি করা যায়। লাইব্রেরীতে এসে কৃষকরা তাদের সমস্যার বিষয়ে বই পড়ে সমাধান পেয়ে থাকেন এবং সে মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

শেয়ার করুন ..