চিরিরবন্দর থানার গোলঘরে বসে প্রেমিক প্রেমিকার বিয়ে দিলেন এসআই তাজুল

423

মোঃ আব্দুস সালাম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার গোলঘরের দরজায় লেখা আছে আইন সহায়তা কেন্দ্র অথচ সেখানে বসেই আটক প্রেমিকের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন এসআই তাজুল ইসলাম। জানা গেছে, গত ২৭ আগষ্ট সোমবার উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের পূর্ব সুরইল সাহাপাড়ার মৃত পুলিন চন্দ্র রায়ের পুত্র ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখার ক্যাশিয়ার জয়ন্ত কুমার রায় একই ইউনিয়নের ঢাকইল ভরসাপাড়ার কাচুরাম রায়ের কন্যা ও দিনাজপুর সরকারী কলেজ হতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাষ্টার্সের ছাত্রী ঊষা রানী ওরফে সোনালীর সাথে একটানা আট বছর ধরে চুকিয়ে প্রেম করে আসছিল। এরই মধ্যে সোনালীকে প্রত্যাখ্যান করে গত ১০ আগষ্ট জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ভবের বাজার এলাকার মনোরঞ্জন রায়ের কন্যার সাথে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চুক্তিতে ১০ লাখ টাকা নগদ গ্রহন ও একটি স্বর্নের চেইন নিয়ে বিয়ের আশির্বাদ করে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সোনালী বাদী হয়ে গত ২৫ আগষ্ট চিরিরবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের ম্যাসেজ নবাবগঞ্জ থানায় গেলে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ গত ২৭ আগষ্ট ভোরে তার ভাড়া বাসা হতে আটক করে চিরিরবন্দর থানায় পাঠায়। আটকের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভবের বাজার এলাকার হবু শশুর মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে তার মেয়ের আশির্বাদিত জামাই জয়ন্তকে দেখে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি তার মেয়েকে জয়ন্ত কুমারের সাথে আর বিয়ে দেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয় এবং তার দেয়া ১০ লাখ টাকা ও স্বর্নের চেইন ফেরত চেয়ে থানার ওসি’র স্মরনাপন্ন হন। আটকের পর হতে সন্ধা পর্যন্ত দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হলেও সারাদিনে কোন সুরাহা করতে পারেনি স্থানীয় গন্যমান্যগন। অবশেষে রাতে চিরিরবন্দর থানার এস আই তাজুল ইসলামের নের্তৃত্বে তিন পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে পুনরায় থানার গোলঘরে বৈঠক শুরু হলে বিভিন্ন মহল হতে প্রস্তাব আসে যে যে পরিমান টাকা মনোরঞ্জন যৌতুক হিসাবে জয়ন্ত কুমারের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সে পরিমান টাকা সোনালীর বাবা দিলে সোনালীর সাথে জয়ন্ত কুমারের বিয়ে হবে। কারন সোনালীর বাবা টাকা না দিলে আশির্বাদিত কন্যার বাবা মনোরঞ্জন রায়ের নিকট হতে গৃহীত টাকা ফেরত না দিলে সোনালীকে সে বিয়ে করতে পারবেনা। সোনালীর বাবা অসহায় গরীব হওয়ায় তিনি এত টাকা যৌতুক দিতে পারবেনা বলে উপস্থিত সকলের সামনে জোড়হাত করে ক্ষমা চান এবং তাদের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিবেন বলেও জানান। বৈঠক চলাকালীন এসআই তাজুল ইসলাম জয়ন্ত কুমারের সাথে একান্ত গোপন বৈঠককের পর সাড়ে ছয় লাখ টাকা যৌতুক নির্ধারন হয়। অবশেষে সোনালীর বাবা ওই মজলিসে যৌতুক বাবদ নগদ ৪০ হাজার টাকা জয়ন্ত কুমারকে দিলে রাতেই থানার পাশ্ববর্তী রাস্তার ধারের একটি কালী মন্দিরে নিয়ে গিয়ে জয়ন্ত সোনালীর বিয়ে দেয়া হয়। থানায় বসে যৌতুক নির্ধারন ও লেনদেনের ব্যাপারে এসআই তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমার বলার কিছুই নেই কারন আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি কাজ করছি। অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারেসুল ইসলাম জানান, আমি এসআই তাজুলকে আইনিভাবে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছে।

শেয়ার করুন ..