আজ ঐতিহাসিক পাকুড়িয়া গণহত্যা দিবস

226

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা (নওগাঁ)ঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক পাকুড়িয়া গণহত্যা দিবস আজ ২৮ আগস্ট। ১৯৭১ সালে সারাদেশের মানুষ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় জেগে ওঠে। তখন নওগাঁর সদর উপজেলার নিচ পাকুড়িয়া গ্রামে রাজাকার আলবদর ও পাকিস্তানীদের উপর অপারেশন চালানোর পরিকল্পনায় ভুলবশত বর্তমানে মান্দা উপজেলা সদর হতে ৭ কিলোমিটার দূরে পাকুড়িয়া গ্রামে ২৮ আগষ্ট সকালে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী বাড়ি বাড়ি তল¬াশী চালিয়ে স্থানীয় জনসাধরনকে একে একে ধরে নিয়ে সভা উপলক্ষে বর্তমান পাকুড়িয়া ইউনাইটেড স্কুল মাঠে একত্রিত করে। এরপর সেখানে জমায়েতকৃত ১২৮ পরিবারের ১৪৬ জনকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে কয়েক দফা মেশিনগানের গুলি চালিয়ে নিরাপরাধ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশীকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শত্র“রা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তবে এ সময় গায়ে রক্ত মেখে নিঃশ্বাস চেপে রেখে মৃত্যুর ভান করে ভাগ্যবলে বেঁচে যান ১৯ জন। পরে কয়েক দিনের ব্যবধানে মারা যান আহতদের মধ্যে অনেকেই। সে সময় পাকুড়িয়া পরিণত হয়েছিল যেন এক বিধবাদের পল¬ীতে। যারা শরীরে বুলেটের চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন তারাসহ সেই সময়কার এলাকার স্থানীয় লোকজন আজো সেই দিনের স্মৃতির কথা মনে করে আঁতকে উঠেন। আজো কেঁদে ওঠেন হারানো স্বজনদের কথা মনে করে। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম নির্মম পৈশাচিক গণহত্যার ঘটনা। অথচ সে ঘটনার ইতিহাস আজও যথাযথ সংরক্ষণ করা দুরের কথা তেমন কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি। ৪৫ বছর যাবত এই দিনে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠান করা হলেও সরকারীভাবে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না। অবিলম্বে সরকারী ভাবে পাকুড়িয়া গণহত্যার ইতিহাস, শহীদদের কথা মুক্তিযুদ্ধের দলিলে লিপিবদ্ধ, স্মৃতি রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দিনটিকে সরকারীভাবে পালনের জোর দাবী জানিয়েছেন শহীদ পরিবার এলাকাবাসি । বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্ঠি কামনা করেন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাকুড়িয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকালে স্মৃতিচারণ,আলোচনা সভা মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে পাকুড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল জানান।

শেয়ার করুন ..