ঝিনাইদহে শুরু হলো বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুুর্নামেন্ট’১৮

246
KODAK Digital Still Camera

এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে : প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দ্বারা আয়োজনে সারাদেশে শুরু হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৭।
প্রতিযোগিতায় জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফুটবল ক্লাব এবং ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়েরা এতে খেলছেন। খেলছেন শুধু তাই নয়, সারা বাংলাদেশের সাড়ে ৫ হাজার দল নিয়ে প্রায় ১ লাখের কিছু বেশি ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড়েরা এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্য হতে ৪০ জন ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই করে তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে উপজেলা সদরে আন্তঃইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের অংশ নেয়া সেরা খেলোয়াড় নিয়ে উপজেলা দল গঠন হবে জেলা পর্যায়ে এবং জেলা দল বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় দল জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে।
সূত্র আরো বলেছে, প্রতিটি পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপন দলের জন্য ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলেছে, বঙ্গবন্ধু ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতা যাতে সফল হয়, তার জন্য জাতীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট কমিটির পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে কমিশনার, জেলা পর্যায়ে প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়েছে ইতিমধ্যে। এছাড়াও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের কমিটিতে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের ফুটবল খেলার সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এখন হতে প্রতি বছর এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
সূত্র আরো বলেছে, প্রতিযোগিতার জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে। এবং আগামী বছর হতে অনুরূপভাবে মেয়েদের ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

আজ রবিবার ৩রা সেপ্টেম্বর’১৮ বিকালে ঝিনাইদহ জেলা সদরের স্থানীয় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অসংখ্য দর্শকের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হলো উপজেলা পর্যায়ের খেলা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের ৯দিনব্যাপী উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাম্মী ইসলাম। এই সময়ে ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র নির্বাহী সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঝিনাইদহ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ, ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুজ্জামান ঝন্টুসহ উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে। ঝিনাইদহ জেলা সদরের ১৮টি ইউনিয়ন দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে।
উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেয় পোড়াহাটী ইউনিয়ন ও হরিশংকরপুর ইউনিয়ন। খেলার নির্ধারিত সময় উভয় দল ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ করে। পোড়াহাটীর পক্ষে বিদ্যাসাগর বিশ্বাস ও হরিশংকরপুরের পক্ষে হৃদয় হোসেন গোল করেন। প্রথমার্ধে পোড়াহাটীর বিদ্যাসাগর বিশ্বাসের দেয়া গোলে ১-০তে এগিয়েছিল।

প্রথমার্ধে ১৮ মিনিটে ১০ নম্বর জার্সি দলনায়ক মেহরাব লেফট উইং জায়গায় দিয়ে বার বার আক্রমন করতে দেখা যায় পোড়াহাটী দলের কোচ শেখ মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের শিষ্যরা। ওদিকে হরিশংকরপুর ইউনিয়নের আক্রমনভাগের খেলোয়াড়েরা ঝটিকা আক্রমন আক্রমন চালিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
খেলার মাঝামাঝি সময় অর্থাৎ ২৪ মিনিটে দুই দলই সমানে সমান তালে খেলেছে। হরিশংকরপুরের গোলকিপার হিরণ দুর্দান্তভাবে ৩টি গোলসেভ করেন।
২৯ মিনিটে হঠাৎ আক্রমন করতে গিয়ে গোলের দেখা পেয়ে যায় পোড়াহাটী ইউপি দল। বক্সের ভেতর হতে ৯ নম্বর জার্সি বিদ্যাসাগর বিশ্বাস দুর্দান্ত শটে গোলকিপার হিরণকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে দেন (১-০)। প্রথমার্ধে উভয় দল আর গোল করতে সক্ষম হয় না।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেলে হরিশংকরপুর ইউপি দল। এই সময় হরিশংকরপুরের রাজিব, মেহেদী ও সাজ্জাদ খেলোয়াড়দ্বয় বার বার আক্রমণ শানাতে খেলতে দেখা গেছে ঐ পোড়াহাটী শিবিরে। গোলশোধের জন্য একদম মরিয়া হয়ে উঠে তারা। ২টি ফুল চান্স পেয়েছিল যদিও প্রতিপক্ষ গোলকিপার হাসান আলীর অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে সেভ করায় আর পেরে ওঠেনি হরিশংকরপুর দল।
খেলা শেষ হতে ৬ মিনিট বাকি। তখনই ঘটনা ঘটে যায় একটা আকস্মিক গোল….বামপ্রান্তে পেনাল্টি বক্স হতে প্রায় ৩০ গজ দূর হতে ফ্রিকিক পায় হরিশংকরপুর দল। তাতে ফ্রিকিক করেন ২ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় হৃদয় হোসেন। রংধনু বাঁকা শটের বল সঠিকভাবে গ্রীপ করতে পারেননি গোলকিপার হাসান আলী। বল ধরলেও ফসকে যায় এবং সেই বলটি দ্বিতীয়বারের মতো ধরতে পারেননি হাসান আলী..বল সোজা গোলনেটে…(১-১)। উল্লাসে ফেটে পড়েন হরিশংকরপুরের দর্শকরা।
টাইব্রেকার কিকে হরিশংকরপুর ৩-২ গোলে পোড়াহাটী দলকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে। টাইব্রেকার কিকে পোড়াহাটীর মেহরান ও লাব্বি এবং হরিশংকরপুরের হৃদয়, ইমন ও সোহানুর গোল করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরাজিত দলের হাসিবুল, আলিপ ও বিদ্যাসাগর বিশ্বাস এবং বিজয়ী দলের কাজল বিশ্বাস ও রাজিব গোল করতে পারেননি। খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান হরিশংকরপুর ইউপির ৮ নম্বর জার্সি ইমন মোল্ল্যা।
হলুদ কার্ড : হরিশংকরপুরের রনি, রাজিব ও আকাশ। পোড়াহাটীর বিদ্যাসাগর।
খেলা পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম। সহকারী রেফারি ছিলেন জামাল হোসেন ও মজিবর রহমান শামীম। ৪র্থ সহকারী রেফারি শাহ মোহাম্মদ আবদুুল্লাহ।

হরিশংকরপুর ইউনিয়ন : গোলকিপার হিরণ, হৃদয় হোসেন, ফরহাদ, সাইফুল, আকাশ, শহিনুর, রনি শেখ (কাজল), ইমন মোল্ল্যা, রাজিব, মেহেদী (ইব্রাহিম) ও সাজ্জাদ।
অদ্য সোমবারের ২টি খেলা : ফুরসন্ধি ইউপি বনাম মধুহাটী ইউপি (দুপুর ২.৩০ মিনিট) এবং গান্না বনাম কুমড়াবাড়ীয়া ইউপি।
পোড়াহাটী ইউনিয়ন : গোলকিপার হাসান আলী, মেহরান হোসেন (অধিনায়ক), লাব্বি প্রান্ত, আলিপ, হৃদয়, গোপাল বিশ্বাস, হাসিবুল ইসলাম, রনি কুমার (সবুজ হোসেন), আশিকুজ্জামান, বিদ্যাসাগর বিশ্বাস ও লুৎফর রহমান (প্রান্ত কুমার)।

শেয়ার করুন ..