ফোরাত তীরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো সেনা মোতায়েন করা হবে: এরদোগান

213

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্ক সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর তীরবর্তী স্থানে আসন গেঁড়ে থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যেমনটি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সিরিয়ার আফরিন শহরটিকে সিরিয়ান-কুর্দিস ওয়াইপিজি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিকট থেকে উদ্ধার করার জন্য তুরস্ক সেখানে বড় রকমের সেনা অভিযান পরিচালনা করেছিল। আঙ্কারা ওয়াপিজি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে মনে করে। বর্তমানে ওয়াইপিজি ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।

এরদোগান বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছা করলে আমরা ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলসহ দেশটির অন্যান্য স্থানে নিরাপদ স্থান বৃদ্ধি করতে পারবো।’

আফরিনে সেনা অভিযান চালানোর আগে তুরস্ক ‘ইউফ্রেটিস শিল্ড’ নামে আন্তঃসীমানাগুলোতে একটি সেনা অভিযান চালিয়েছিল। ‘ইউফ্রেটিস শিল্ড’ নামের এই সেনা অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো- সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে আসন গেঁড়ে বসে থাকা ওয়াইপিজি এবং ইসলামিক স্টেটের সন্ত্রাসীদের সেখান থকে হটিয়ে দেয়া।

২০১৭ সালে ‘ইউফ্রেটিস শিল্ড’ নামের ওই সেনা অভিযান সম্পন্ন হওয়ার পরে তুরস্ক সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণে একটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিল। আফরিন শহরটিতেও তুরস্ক এই নীতি অবলম্বন করেছিল।

এরদোগান এর পূর্বে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, সিরিয়ার সীমান্তে আশ্রয় নেয়া ওয়াইপিজি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশটি পুনরায় সেনা অভিযান পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনে উত্তর ইরাকেও দেশটি সেনা পাঠাতে পারে।

তুরস্ক যদি কুর্দি অধ্যুষিত ইউফ্রেটিস এর পূর্বাঞ্চলে সেনা অভিযান আরো বৃদ্ধি করে তবে এর ফলে তুরস্কের জন্য এটি এক রকম ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কেননা ওয়াইপিজি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে আগে থেকেই তুরস্কের মিত্র ন্যাটো সেনাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারাও অবস্থান করছে। এর ফলে সেখানে মোটামুটি ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধার উপক্রম হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ওয়াইপিজি ওয়াশিংটনের অন্যতম মিত্র। ওয়াইপিজিকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ওয়াইপিজির উপর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ায় আঙ্কারা দেশটির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। কেননা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক দশক ধরে অশান্তি সৃষ্টির মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে।

এর পূর্বে এরদোগান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এক যৌথ ঘোষণায় জানান- রাশিয়া এবং তুরস্ক সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব শহরে অনেকগুলো বেসামরিক জোন সৃষ্টি করবে। তাদের এই যৌথ বিবৃতি দানের এক সপ্তাহ পর এরদোগান সিরিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী অঞ্চল নিয়ে উপরোল্লেখিত মন্তব্য করেন।

(দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি নদী ইউফ্রেটিস। এর আরেক নাম ফোরাত। পারস্য শব্দ ‘ইউফ্রেতু’ থেকে নদীটির নামকরণ হয়েছে ইউফ্রেটিস। পূর্ব তুরস্কের উচ্চ ভূমি থেকে উৎপত্তি হয়ে টাইগ্রিস নদীর (দজলা নদী) সঙ্গে মিলে পারস্য উপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এই নদী দুটির (ইউফ্রেটিস নদী ও টাইগ্রিস নদী) অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা। প্রাচীন সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয় এবং আসিরীয় সভ্যতাগুলোও এখানে বিকাশ লাভ করেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০০ কিলোমিটার। এপ্রিল ও মে মাসে পানির পরিমাণ থাকে বেশি। নদীর তীরঘেঁষা প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার রাক্কা ও দাইর আজ জর, ইরাকের রামাদি। নদীটি অগভীর হওয়ায় ছোট নৌকা ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচল করতে পারে না। পানি সরবরাহের জন্যই নদীটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক সেচকাজ ও পানিবিদ্যুতের কাজে এ নদীর পানি ব্যবহার করে।)

সূত্রঃ রয়টার্স।

শেয়ার করুন ..