আবারো ফাইনালে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

266

বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতল ভারত। অপরদিকে তৃতীয়বারের মতো রানার্স আপ হলো বাংলাদেশ।

২২৩ রানের লক্ষ্যেও ধুঁকতে হয়েছে রোহিত শর্মাদের। তবে নানা চড়াই উতরাই পার হয়ে শেষ বলে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায় ধোনিরা।

ফাইনালি লড়াইয়ে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

এদিন লিটন দাসের ১২১ রানে ভর করে দেড় ওভার বাকি থাকতেই ২২২ রানে গুটিয়ে যায় মাশরাফি বাহিনী।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চড়াও হয়ে খেলেন শিখর ধাওয়ান। স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন তিনি। তবে তার এ ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ৩৫ রানে তাকে ফিরিয়ে টাইগারদের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন নাজমুল ইসলাম অপু।

সৌম্যর ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরান তিনি। কিছুক্ষণ পর মুশফিকের গ্লাভসবন্দি করে আম্বাতি রাইডুকে ফেরান মাশরাফি। তাতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।

ধাওয়ানের পর খানিক ব্যবধানে ফিরে গিয়েছিলেন রাইডু। তবে থেকে গিয়েছিলেন রোহিত। দারুণ খেলছিলেন তিনি। বাজে বল পেলেই তা সীমানাছাড়া করছিলেন। এতে দুরন্ত গতিতে ছুটছিল ভারত। তবে তাতে বাদ সাধেন রুবেল হোসেন। দলীয় ৮৩ রানে অসাধারণ এক ডেলিভেরিতে নাজমুল অপুর তালুবন্দি করে দুর্দান্ত খেলতে থাকা রোহিতকে (৪৮) ফেরান তিনি। এতে খেলায় ফেরে বাংলাদেশ।

৮৩ রানে টপঅর্ডারের ইনফর্ম ৩ ব্যাটসম্যান হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। সেখান থেকে মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন দিনেশ কার্তিক। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ধোনি। হঠাৎই থামতে বাধ্য হন কার্তিক (৩৭)। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তাকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এতে ফের চাপে পড়ে ভারত। সেই চাপের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়েন ধোনি। এক পর্যায়ে সেই বিষদাঁতও ভেঙে দেয় টাইগাররা। দুর্দান্ত অফকাটারে তাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আরো চাপ বাড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরই পায়ের পেশিতে টান পেয়ে (রিটায়ার্ড হার্ট) মাঠ ছাড়েন কেদার যাদব।

পরে সেই চাপটা ভালোভাবে অব্যাহত রাখতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। দ্রুত ভুবনেশ্বর কুমার ও রবীন্দ্র জাদেজার জুটি ভাঙতে পারেননি তারা। শেষদিকে জাদেজাকে ফিরিয়ে একটু উত্তেজনা বাড়ান রুবেল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ভুবনেশ্বরকে ফিরিয়ে তাতে বাড়তি পারদ জোগান মোস্তাফিজ। টাইগারদের দৌড় ছিল সেই পর্যন্তই। শেষ অবধি ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ২২২ (৪৮.৩ ওভার) (লিটন ১২১, মিরাজ ৩২, ইমরুল ২, মুশফিক ৫, মিঠুন ২, মাহমুদউল্লাহ ৪, সৌম্য ৩৩, মাশরাফি ৭, নাজমুল ৭, মোস্তাফিজ ২*, রুবেল ০; ভুবনেশ্বর ০/৩৩, বুমরাহ ১/৩৯, চাহাল ১/৩১, কুলদিপ ৩/৪৫, জাদেজা ০/৩১, কেদার ২/৪১)।

ভারত : ২২৩/৭ (৫০ ওভার) (রোহিত ৪৮, ধাওয়ান ১৫, রাইডু ২, কার্তিক ৩৭, ধোনি ৩৬, কেদার ২৩*, জাদেজা ২৩, ভুবনেশ্বর ২১, কুলদিপ ৫*; মিরাজ ০/২৭, মোস্তাফিজ ২/৩৮, অপু ১/৫৬, মাশরাফি ১/৩৫, রুবেল ২/২৬, মাহমুদউল্লাহ ১/৩৩)।

শেয়ার করুন ..