নির্বাচন পর্যন্ত মাঠ দখলে রাখবে ১৪ দল

231

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত মাঠ দখলে রাখতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। এ লক্ষ্যে সারাদেশে মহাসমাবেশ করবে মহাজোট।

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ কর্মী সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় মহাসমাবেশ করা হবে। একই মাসের যেকোনও দিন মহাসমাবেশ করা হবে ঢাকায়।

নাসিম বলেন, ওরা (২০ দল) বলেছে অক্টোবর মাস থেকে মাঠে থাকবে। অক্টোবর মাস তোমাদের জীবনে আসবে না। আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠ গরম করবো। আমরা দেখিয়ে দেব।

১৪ দলের জোটের মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্রান্ত করেছিল যেন মহানগর নাট্যমঞ্চে আমরা সমাবেশ করতে না পারি। আমরা হলাম বাঘের বাচ্চা। আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের কর্মীরা বাঘের বাচ্চা। যত বাধা দেবে আমরা তত বেশি অগ্রসর হবো। আজকে কর্মী সভা নয়, জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চক্রান্ত শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে। এখন ১৪ দলের কর্মীদের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মীদের ঘরে বসে থাকার সময় আর নাই। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এটা ২০১৪ সাল নয়, ১৮ সাল। তোমাদের মরণকাল এ বছরই হবে। বিএনপি-জামায়াত লোক ভাড়া করছো। পরিত্যক্ত, পলায়নকারীদের ভাড়া করছো। যাদের নীতি নাই, ঠিকানা নাই। পলায়ন করতে অভ্যস্ত, ওই নেতাদের ভাড়া করছো।’

‘খেলার মাঠে খেলোয়াড় ভাড়া করা যায়। রাজনীতি নেতা ভাড়া করা হয় এটা প্রথম দেখলাম। ভাড়াটিয়া দিয়ে জয় করতে পারবে না। ভাড়াটিয়া দিয়ে কাজ হয় না। একজন বিদেশে বসে আর দুইজন দেশে বসে চক্রান্ত করছে।’

জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাবধান থাকবেন। শেখ হাসিনা ও আমরা যখন ডাক দেব তখন কেউ ঘরে বসে থাকবেন না, ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। ১৪ সালে জ্বালাও-পোড়াও করেছো, এবার হবে না। আমাদের ঐক্য দরকার। মাত্র কয় দিনের নোটিশে আপনারা আজকে এখানে এসেছেন।’

সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যারা ৯ বছরে ৯ দিনও আন্দোলন করতে পারে নাই, অনুমতি ছাড়া রাস্তায় নামতে পারে না, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের, ১৪ দলের কোনো পাল্টাপাল্টি প্রয়োজন নাই। আমরা দেখেছি বেশ কিছু দিন ধরে, সামনে নির্বাচনকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যর্থ করার জন্য একের পর এক চক্রান্ত চলছে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণের প্রতিরোধ সংগঠিত করতে হবে। যখন তারা ধরা পড়বে তখন তারা ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথা বলছে। গতকাল দেখলাম বিএনপি ২০ দলের মিটিংয়ে জামায়াত বলেছে, আমাদের নিয়েই যদি এত সমস্যা হয় আপনারা ঐক্য করুন। অন্য দিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলছেন, আমরা তো বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছি, জামায়াত তো এখানে নেই। কথায় বলে, হাত ঘুরিয়ে ভাত খাওয়া। বাংলার জনগণ কখনও ভুল করে নাই, করবে না। তাদের চেহারা ধরা পড়ে গেছে। নির্বাচন হবে, নির্বাচন হচ্ছে। ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ মিলে উন্নয়ন-অসাম্প্রদায়িক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী পলায়নপর নেতা। উনারা এসেছেন গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। তিনি বলেন, দুই পলায়নপর নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আরেক পলাতক নেতা তারেক রহমান। তিনজনের একটা ঐক্য হয়েছে। এরা ষড়যন্ত্রের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা গণতন্ত্র নয় ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছেন। তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ১৪ দলকে মাঠে নামতে হবে। তিনি বলেন, আবারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আদর্শিক জোট ১৪ দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।

শেয়ার করুন ..