সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

410

সরকারি চাকরিতে ১ম ও ২য় শ্রেণির কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্যাডার-নন ক্যাডার পদে কোটা প্রত্যাহার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অন্য পদগুলোতে কোটা বহাল রাখার সুপারিশ করে কমিটি। পরে ২০শে সেপ্টেম্বর সরকারি কোটা বাতিলে সচিব কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে, সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবিতে গেল এপ্রিলের শুরুতে সড়কে অবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দেখা দেয় অচলাবস্থা। এ অবস্থায় ১১ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে সব ধরনের কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ২রা জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়।

সে সময়, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে অন্যান্য কোটা বাতিলের পক্ষে মত দেয় কোটা সংস্কার পর্যালোচনায় গঠিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে, রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে তারা কোটা বাতিল নয় পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটা সংস্কারের দাবি জানায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা;

কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ নিয়োগ না দেয়া;

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেয়া;

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই বয়স নির্ধারণ রাখা;

কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৩০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, নারী কোটায় ১০ শতাংশ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে এক শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ পদে নিয়োগ পান মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীরা।

শেয়ার করুন ..