পম্পেওর সফর, সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ছে

165

সাংবাদিক জামাল খাসোগির অন্তর্ধান রহস্যের জবাব পেতে সৌদি আরব সফর করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সেখানে তিনি বাদশাহ সালমানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন।

মঙ্গলবার বাদশাহের সঙ্গে ১৫ মিনিট সাক্ষাতের পর তার ছেলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মত বৈঠক করেছেন পম্পেও। ভোজের পর আরো একবার তার সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে পম্পেওর।

খাসোগির বিষয়টি জানানোর জন্য প্রচণ্ড আন্তর্জাতিক চাপে আছে সৌদি আরব। এর মধ্যে দেশটিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরে খাসোগির ভাগ্যে কি ঘটেছে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর চাপ আরো বাড়ছে।

দু’সপ্তাহ আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল সৌদি সাংবাদিক খাসোগিকে।

তুরস্কের ধারণা, সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের সমালোচক এ সাংবাদিককে সৌদি চররাই খুন করেছে। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

খাসোগি নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে এরই মধ্যে তল্লাশি হয়েছে। আরো ব্যাপক পরিসরে তল্লাশির উদ্যোগ নিচ্ছে তুরস্ক। এর আওতায় তারা সৌদি কনসালের ইস্তাম্বুলের বাসভবনেও তল্লাশি চালাবে।

সৌদি আরব সোমবার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। খাসোগিকে কনসুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করার কথা স্বীকার করার বিষয়টি সৌদি আরব বিবেচনা করছে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোতে।

এ পরিস্থিতিতেই সৌদি আরবে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে,পম্পেও খাসোগির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং সচ্ছ্ব তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য বাদশাহ সালমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ওদিকে, খাসোগির পরিবার তার অন্তর্ধানের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের আর্জি জানিয়েছে।

পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও খাসোগির ঘটনার ষুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

খাসোগির বিষয়টি নিয়ে এর আগে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক ফোনআলাপের পর পম্পেওকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।এ সফরের পর তুরস্কে যাবেন তিনি।

ট্রাম্প এর আগে এক টুইটে বলেছিলেন, “বাদশাহ সালমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বাদশাহ খাসোগির ব্যাপারে কিছু জানা থাকার কথা জোরালভাবে অস্বীকার করেছেন। তার কথা শুনে মনে হয়েছে এ ঘটনায় দুর্বৃত্ত খুনিরা জড়িত থাকতে পারে।”

তবে এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেন নি তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে বাদশাহর কাছ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানাটাও ছিল পম্পেওর সৌদি আরব সফরের উদ্দেশ্য।

শেয়ার করুন ..