সংসদে কালো আইন পাসের হিড়িক চলছে : রিজভী

276

দেশের গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণসহ জনগণের কণ্ঠরোধ করতে সংসদে কালো আইন পাসের হিড়িক চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদের বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা কালো আইন পাসের হিড়িক চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে ভোটারবিহীন সংসদ সদস্যদের এখন পর্যন্ত ২৩টি অধিবেশন বসেছে এর মধ্যে প্রায় দুই শত আইন পাস করেছে তারা।

এ সময় তিনি এক মন্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই এ গণবিরোধী খারাপ আইনগুলো পাস করিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত অধিবেশনেও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের কণ্ঠরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮টি আইন পাস করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনেও চলছে নতুন নতুন আইন পাসের তোড়জোড়। মানুষ এখন নিজের ছায়াকে দেখলেই ভয় পায়। ঘুমের ঘোরের কথাতেও আতঁকে ওঠে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, দেশের রাজনীতিসহ গোটাদেশকে কব্জায় নিতে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এত কালো আইন পাস করে রেকর্ড গড়তে চলেছেন। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব তুলেছেন যা, চলতি সংসদে পাস করতে তোড়তোড় চলছে।

শেখ হাসিনা তার পিতার সৃষ্টি বাকশালকে ব্যর্থ হতে দিতে চান না বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ভিন্ন কায়দায়, ভিন্ন পন্থায় মৃত বাকশালকে জীবিত করতে অমৃত পান করানো হচ্ছে এ সমস্ত কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। আইনের মারপ্যাঁচে মূলত তিনি দেশে একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন ঘটাচ্ছেন।

একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছাড়া দেশে অন্য কারও নেতৃত্ব থাকবে সেটা তিনি মানতে পারছেন না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলও থাকবে তবে সেটি হবে গৃহপালিত, শেখ হাসিনার আদরের ধন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা যত দিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন গণবিরোধী কাজের সমালোচনাও করা যাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না, ব্যাংক লুটের কথা বলা যাবে না, অপকর্মের কথা বলা যাবে না, গুম ও গুপ্ত হত্যার কথা বলা যাবে না।

গত দু’দিন আগে তিনি বলেছেন, ৪০টি টেলিভিশন আমি দিয়েছি অথচ তাদের দিয়ে সবচেয়ে ভুক্তভোগী আমরা। শেখ হাসিনার এই বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্ব যেখানে এগিয়ে চলছে সেখানে গণমাধ্যম এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি কি গণমাধ্যম দেয়াকে কি ব্যক্তিগত সম্পদ দেয়ার মতো মনে করছেন যে, তিনি তার নিজস্ব গোডাউন থেকে টেলিভিশন চ্যানেল সরবরাহ করেছেন। অর্থাৎ তিনি টেলিভিশন দিয়েছেন দলীয় চেতনার মানুষদের শুধুমাত্র তার গুনগান করার জন্য। সেখানে কিছুটা ব্যতিক্রম হলেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন। এটিই হচ্ছে গণতন্ত্র বিরোধী বাকশালী চেতনা।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী ভোটারবিহীন সংসদে বলেছেন, যদি জনগন ভোট দেয় আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে। শেখ হাসিনার দেওয়া এই বক্তব্যের সমালোচনাও করেছেন রিজভী।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হলো তার মন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভরা। উনি রাষ্ট্র ক্ষমতা আটকে রেখেছেন জনগণের কল্যাণে নয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইনি ব্যবস্থায় প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে। সুতরাং সেটিরই প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। সেজন্য তিনি যা ইচ্ছা তাই করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরির বিরুদ্ধে করা মামলার সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরির মতো বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার হিড়িক চলছে। গতকাল তার বিরুদ্ধে চুরির মামলাও দায়ের করা হয়েছে। কতটা অসংস্কৃত ও হিংসার আচরণ করা যায় তার সবটাই প্রয়োগ করা হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা, মানবাধিকার কর্মীরাও আজ সরকারের সহিংস আচরণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

সবশেষে তিনি বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলে রাখি জনগণের এজলাসে বিচারের মুখোমুখি হতে ক্ষমতাসীনরা যেন প্রস্তত থাকে।

শেয়ার করুন ..