দাবি পূরণ না হলে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট

188

সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি আর বাড়ছে না। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই সারাদেশে চলবে পরিবহন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। এ দিকে ধর্মঘটে চালক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল মুখে কালো মবিল মেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে সারাদেশে পরিবহন শ্রমিকরা রবিবার সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘন্টার কর্মবিরতি শুরু করে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, দাবি পূরণে সরকারকে আগামী ২১ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা না হলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ফের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা কর্মবিরতি বর্ধিত না করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পণ পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ মুকবুল আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদে আইনটি যেদিন পাস হয় সেদিন শ্রমিক ফেডারেশন ও মালিক সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা (নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা) সংসদে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা সেদিন কোনো ধরনের প্রতিবাদ করেননি। ফলে তাদের দাবি অযৌক্তিক। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানান। অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক ডাইভারস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ মনির।

কর্মসূচির ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, আমরা আমাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দিচ্ছি। এসময়ের মধ্যে কোনো আশ্বাস না পেলে আমরা ফের ৯৬ ঘন্টার ধর্মঘটে যাব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
-ইত্তেফাক

শেয়ার করুন ..