বিএনপি ঠেকাতে ইসি-পুলিশ একজোট: রিজভী

144

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে। ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপিকে ঠেকাতে এখন পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনার একজোট হয়ে গেছে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বক্তব্য দলবাজদের আবারও উৎসাহী করে তুলবে।

শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, সিইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় বলেছেন কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে না। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বিতর্কিতদের সরানোর আহ্বানের বিপরীতে সিইসির এ ধরনের বক্তব্যে দলবাজ কর্মকর্তাদের আরো বেপরোয়া করে তুলবে।

এর আগে পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর গায়েবি মামলা দেওয়া হবে না, অথচ এখন অব্যাহতভাবে গায়েবি মামলা করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার সারাদেশে পুলিশের দায়ের করা গায়েবি মামলা দায়েরের বিষয়ে তুমুল আপত্তি তুললেও সেটিকে গ্রাহ্য করা হয়নি।

রিজভী বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কর্মকর্তারা একজোট হয়ে বৈঠক করেছেন। বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন থেকে কীভাবে দমন করে চাপিয়ে রাখা যায়, তারই মহাপরিকল্পনা হয়েছে সেখানে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সমতল মাঠ তৈরি করতে হবে, বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন সাজাতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশজুড়ে গ্রেফতার, হামলা-নির্যাতন থামছেই না। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে মাঠে ময়দানে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে, নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান বিশাল প্রচারণা সভা করেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষে মাইকিং করে সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মিছিল করে, সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় যেতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ঘরোয়া বৈঠক করতে চাইলে সেখানে চলছে সশস্ত্র হামলা। বিএনপির লোক ঘরের ভিতর সভা করতে পারছেন না অথচ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের চোখের সামনে বড় বড় সমাবেশ করছে, নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে সারাদেশ আওয়ামী লীগের ফেস্টুন, ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এর আগে পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন যে, তফসিল ঘোষণার পর গায়েবী মামলা দেয়া হবে না, অথচ এখন অব্যাহতভাবে গায়েবী মামলা দায়ের করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার সারাদেশে পুলিশের দায়ের করা গায়েবী মামলা দায়েরের বিষয়ে তুমুল আপত্তি তুললেও সেটিকে গ্রাহ্য করা হয়নি।

শেয়ার করুন ..