প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিয়েছেন, বড় কিছু করতে চাই : মাশরাফি

106

নড়াইল-২ আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এ সময় রাজনীতিতে আসা, নির্বাচন এবং দেশ নিয়ে ভাবনার কথা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন মাশরাফি। রাজনীতিতে এলেও ভবিষ্যৎ সময়ে কীভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখবেন- সে কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সিরিজের আগে ফোকাসটা সাধারণত যেমন থাকে, মনোনয়ন পাওয়ার পর এবার উইন্ডিজ সিরিজেও ফোকাসটা তেমন থাকবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘আমি ওইখানের সাথে (নির্বাচন এবং রাজনীতি) এখনও পুরোপুরি জড়িত না। পুরোপুরি অনুশীলনে আমার মন আছে। অবশ্যই ১৪ তারিখের পর আমি ওখানে (নির্বাচনে) কনসেনট্রেশন (মনযোগ) করব। নির্বাচনের আগে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আমার পুরোপুরি কনসেনট্রেশন খেলায় রাখব।’

নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কেন নিলেন- তা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার একটা সুযোগ আসছে, যেটা আমি উপভোগ করি সব সময়, মানুষের সেবা করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা সুযোগ দিয়েছেন আমার এলাকার জন্য কিছু কাজ করার। আপনারা জানেন যে, আমার একটা ফাউন্ডেশন আছে। আমার মনে হয়েছে যে, এটা আমার জন্য বড় সৌভাগ্য, তাদের জন্য কাজ করার।’

দেশের মাটিতে শেষ সিরিজকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশি এই ক্রিকেট তারকা বলেন, ‘আমার কাছে এ নির্বাচনে আসার আগেও প্রত্যেকটা সিরিজ যেমন ছিল এই সিরিজটাও (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ) সে রকম। আমার শেষ আর শুরুতে কিছু যায় আসবে না।’

কী ভেবে নির্বাচনে এসেছেন- তা জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ার অবশ্যই শেষের দিকে। না আমি শচীন টেন্ডুলকার না আমি ম্যাকগ্রা, যে আমার কথা মানুষ স্মরণে রাখবে! এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। ছোটবেলার চাওয়া-পাওয়া ছিল। যেই সুযোগটা আমি বললাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন। সে কারণেই বৃহৎ পরিসরে যদি কিছু করা যায়, সে জন্যই নির্বাচনে আসা। প্রত্যেকে যে যার দল করে তার সম্মানটা থাকা উচিত এবং তার মতো করে দেশের জন্য কাজ করবে, এই মানসিকতা থাকা উচিত।’

ব্যক্তিগতভাবেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘খেলার মধ্যে যাতে রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো না হয় সে জন্যই এই সংবাদ সম্মেলনে আসা। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। যদি সুযোগ পাই কাজ করব। আর আগেও বললাম, আমি বিশ্ব ক্রিকেটে আমি এমন কোনো সুপারস্টার না যে আট মাস পরে আমি যখন খেলা ছেড়ে দিব তখন জনে জনে মানুষ আমাকে স্মরণ করবে।’

নড়াইলের মানুষের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ম্যাশ বলেন, ‘যতটুকু কথা হয়েছে, বলেছি, সবাই সাপোর্ট করছে। আমি পারসোনালি এখনও সেখানে যেতে পারিনি। সুতরাং, টোটালি বলাটা কঠিন। খেলার পরে গেলে বুঝতে পারব।’

নড়াইলবাসী কেন মাশরাফিকে ভোট করবে- এমন প্রশ্নেও কৌশলী উত্তর। তিনি বলেন, যিনি ভোট দেবেন ওনার কাছে যদি মনে হয় আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে তাহলে আমাকে ভোট দেবেন। আমার যতটুকু করণীয় আছে, সেটা আমি করব। বাদবাকি উনার ব্যাপার যে, উনি আমাকে পার্সোনালি সমর্থন দেবে কি দেবে না। সেটার নিয়ন্ত্রণ আমার কাছে নাই। আমি আমার মেসেজটা হয়তো বা দিতে পারি। কিন্তু ভোট তো দিবে পার্সোনালি সেই মানুষটা। তবে সেই মেসেজটা এখন বলা নিষেধ।

রাজনীনিতেও ক্রিকেটার মাশরাফি আদর্শ হবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশি তারকা ও নব্য রাজনীতিবিদ মাশরাফি বলেন, ‘আমি এখনও আদর্শ তো হইনি। আমি কাজ করার পর দেখব যে আসলে কী হয়। আপনারাও দেখবেন। যদি ভালো কাজ করতে পারি তাহলে একটা ভালো প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং, আমি সেটাই চেষ্টা করব দিতে।’

শেয়ার করুন ..