বিশ্বজুড়ে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

192

বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে রাতের আকাশকে আলোকিত করে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। ২০১৬ সালকে প্রথমেই বরণ করে নেয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। উৎসবে মাতে হংকং, সিঙ্গাপুর ও বেইজিংয়ের মতো বড় বড় শহরগুলো।

ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও থেমে থাকেনি বর্ষবরণের উৎসব। লন্ডনে আতশবাজি দেখতে জড়ো হন লক্ষাধিক মানুষ। নতুন বছরের কাউন্টডাউন করতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমবেত হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। আর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বর্ষবরণে শামিল হন ২৫ হাজার মানুষ।

২০১৬ সালকে বরণ করে নিতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক।

গ্রিনিচ মান সময় ১১টায় অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ারে বর্ণিল আতশবাজির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় নিউজিল্যান্ড। স্কাই টাওয়ারের আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।

অকল্যান্ডবাসী রাস্তায় নেচে-গেয়ে এবং বর্ণিল আতশবাজি প্রত্যক্ষ করে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এই সময় সমস্বরে তারা ‘শুভ নববর্ষ’ বলে পরস্পরের প্রতি শুভকামনা জানান। অকল্যান্ডের স্কাই সিটি ক্যাসিনো প্রতিবছরই বর্ষবরণের প্রথম ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বর্ণিল আতশবাজির আয়োজন করে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারে গ্রিনিচ মান সময় ১৩টায় আতশবাজির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। হাজার হাজার মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে সিডনি। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন বছর শুরুর রাতটিকে মাতিয়ে রাখেন।

জাপানে বর্ষবরণে রাস্তায় নেমে আসেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। অসংখ্য বেলুন উড়িয়ে তারা নতুন বছরকে স্বাগত জানান। দক্ষিণ কোরিয়ায় আতশবাজির মধ্য দিয়ে এবং প্রথামাফিক ঘন্টাধ্বনি বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয় নতুন বছরকে।

মিশরে বর্ষবরণের উৎসব আয়োজন করা হয় কায়রোর কাছে পিরামিডগুলোর সামনে। দুবাইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় ছিল বর্ণিল আলোকজসজ্জা।

বর্ণিল আতশবাজি আর আলোকসজ্জার বাইরে কিছু ভিন্নচিত্রও দেখা গেছে কোথাও কোথাও। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ষবরণের সব আতশবাজি বাতিল করা হয়েছে। ফ্রান্সজুড়ে ৬০ হাজার পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

হামলার আশঙ্কায় আতশবাজি বন্ধ রাখা হয়েছে বেলজিয়ামেও। দেশটিতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানী ব্রাসেলস ও এর আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ব্রাসেলসের মেয়র ইভান মাইওর বলছেন, যে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে আসবেন, তাদের প্রত্যেককে তল্লাশি করা সম্ভব নয়। আর এত মানুষের জীবনের ঝুঁকি নেওয়াও সম্ভব নয়।

৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে দুবাইয়ে ৬৩ তলা একটি ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ১৬ জন। অ্যাড্রেস হোটেল নামের ওই ভবনটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার পাশেই অবস্থিত। বুর্জ খলিফায় আগুন না ছড়ালেও সেখানে থাকা অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পূর্ব দিগন্তে নতুন বছরের নতুন সূর্যের হাসি। পুরনো জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে নতুন বছরে ক্ষুধা ও যুদ্ধমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রত্যাশা সারা দুনিয়ার কয়েকশ কোটি মানুষের। এমন প্রত্যাশা নিয়েই নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

শেয়ার করুন ..