স্বাগতম ২০১৯, শুভ হউক তোমার আগমন

247

আলো আর অন্ধকারের স্মৃতি হয়ে কালের গর্ভে ডুব দিয়েছে আরেকটি বছর-২০১৮। এসেছে নতুন বছর ২০১৯। পেছনের আলোটুকু নিয়ে অন্ধকার ভুলে শুরু হবে নতুন বছরের ছুটে চলা। বিদায় ২০১৮ স্বাগত খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৯। বছরের সব দুঃখ-বেদনা ভুলে আজ দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করছে ২০১৯ সালকে।

সারা বিশ্বের মানুষ রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষ ২০১৯ সালকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরণ করে নিয়েছে নতুন ইংরেজি বছরকে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নববর্ষ ২০১৯ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ইংরেজি নববর্ষে বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৯ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনুক ।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় বছর।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন বছর সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনার জন্য তিনি মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রার্থনা করেন।

বাঙালী জীবনে গ্রেগরিয়ান নববর্ষ পালনের রেওয়াজ ব্রিটিশ শাসনামল থেকে অনুসৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি তা পরিসরে বেড়েছে। ইংরেজী নববর্ষ হিসেবে বাঙালীর কাছে পরিচিত দিবসটি পালনের ধরন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই। সাধারণ মানুষ এদিন একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। শুভেচ্ছা কার্ড, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইলে হাজার হাজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুরনো বছর যেমনই কাটুক, নতুন বছর যেন ভাল কাটে সেই কামনা থাকে সবার জন্যে।

নতুন বছরে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্যমে নতুন সরকার গঠন করে বাংলাদেশের হাল ধরছেন নতুন ভাবে। বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন দেখছে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির। স্বপ্ন দেখছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, দূর্নীতিমুক্ত, স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে স্বমহিমায় দাঁড়ানোর।

সেই সাথে নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অপরাজনীতি, অপশক্তি, জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সকল আধার কালো মুছে গিয়ে বাংলাদেশ পরিণত হবে এক সত্যিকার সোনার বাংলায়। যে বাংলাকে ভালোবেসে আমরা নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবো।

‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই মূলমন্ত্র মনে রেখে আমরা যেন দেশের সর্বস্ত্ররের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। আমরা যেন এই মন্ত্রে দীক্ষিত হই যে- তোমার মতামতের সাথে হয়ত আমি একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি বক্ষ উজাড় করে পাশে দাঁড়াবো।

সকলের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, জীবন ও রক্তকে পবিত্রজ্ঞান করে নতুন বছর শুরু হোক বাংলাদেশে। জীবনমানের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো এই হোক আমাদের নববর্ষের প্রত্যয়।

দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে আইনের শাসনের ভিত আরও মজবুত হোক। দেশের সব ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রয়াস বিস্তৃত হোক। বাড়ুক গড় আয়ু। শিক্ষা-দীক্ষায় ঘটুক আরও বিস্তার। নিরক্ষরতার অন্ধকার ঘুচে যাক একেবারে। অনেক দামে কেনা স্বাধীনতার মূল্যবোধ সদা অক্ষুণ্ণ থাকুক

বছর শুরুর প্রথম দিন চলুন সবাই মিলে প্রার্থণা করি, দুই হাজার উণিশ আমাদের হোক।

প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ওশুভানুধ্যায়ী সবাইকে ইংরেজি নববর্ষে র শুভেচ্ছা।

শেয়ার করুন ..