কলারোয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৭জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

314

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু সাঈদ ও তার সাঙ্গরা।

এঘটনায় রবিবার সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার সাথে জড়িত তাইফুন ৭ জনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৭ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা (নং-১২,তাং-১২/০৮/১৮) হয়েছে।

কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মারুফ আহম্মদ ও মামলার বাদি সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অনার্সের ছাত্র ওসমান দালাল (২১) এর পিতা কলারোয়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আজগর আলীকে গত ৫ আগস্ট রাত ১১টায় যুগিখালী গ্রামের মান্নান দালালের পুত্র মঈন উদ্দীন জামান ওরফে তাইফুন জানায় তাদের বাড়িতে ডিবি পুলিশ আসতে পারে। এ খবর শুনেই ভিকটিম ওসমান বাড়ির পিছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের পরিকল্পনা মোতাবেক ৭ সদস্যদের একটি চাঁদাবাজ চক্র ওসমানকে জাপটে ধরে চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শারীরিকভাবে মারপিট শুরু করে। পরবর্তীতে ওসমান এর পরিবারকে অপহরণ চক্রের সদস্য শাহীন জানায়, ডিবি পুলিশের সাথে তার সম্পর্ক ভালো। একলক্ষ টাকা দিলে ওসমানকে ছাড়িয়ে আনতে পারবে।

পরে শাহিনকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা দেয়ার জন্য কয়েকদিন সময় নেয় আজগর আলী। পরের দিন ৬ আগস্ট ভোরে ওসমান বাড়ি ফিরে আসে।

ভিকটিম ওসমান জানায়, তাকে আটক করে মুখ বেধে রাস্তার মধ্যে ফেলে মারপিট করা হয়েছে। পরে জালালাবাদ ইউপি পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এনে চোখ খুলে দেয়া হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি আবু সাঈদের নেতৃত্বে তাইফুন, সোহাগ, সইলউদ্দীন, করিমসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা মিলে ওসমান গনিকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করেছে।

এ ঘটনায় ভিকটিম ওসমান এর পিতা আজগর আলী বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১২ আগস্ট রবিবার কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মঈনউদ্দীন জামান তাইফুনকে গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য রবিবার সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠায়।

থানার ওসি জানান, বিজ্ঞ আদালতে তাইফুন কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন ..