গুজব রোধে সাইবার ইউনিটের শক্তি বাড়ানো হয়েছে: আইজিপি

288

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে পুলিশের সাইবার ইউনিটের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর গুজব প্রতিরোধে সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সোমবার পুলিশ সদর দফতরে ১৫ আগস্ট ও ঈদ নিরাপত্তা বিষয়ক ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা জানান।

সাইবার ইউনিটকে শক্তিশালী করতে এর সাথে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা (এসবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিভাগকে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা পুলিশকে সাইবার ইউনিট গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আইজিপি বলেন, গত ২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে, তখন সেই মুহুর্তের আন্দোলন ছিল যৌক্তিক। তারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন, আমরাও তাদের সহায়তা করেছি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তৃতীয় পক্ষ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ করায় পুলিশ বুঝতে পারে এবং ৬-৭ আগস্ট থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কঠোর হয়। ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব। বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানো কয়েকশ অনলাইন পোস্টদাতাকে আমরা শনাক্ত করেছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুজব ছড়িয়েছে। এসব পোর্টাল চিহ্নিত করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাগ্রহণে ২১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খুব দ্রুত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গুজব ছড়ানো কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে সদর দফতরে একটি শক্তিশালী সাইবার মনিটরিং ইউনিট গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক জেলা পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমগুলো মনিটরিং করা হবে।

এ সময় আইজিপি সবাইকে গুজবের ফাঁদে পা দিয়ে শান্তিপূর্ণ দেশকে অশান্ত না করার আহ্বান জানান। ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে’ হুশিয়ারি দেন তিনি।

ছাত্র আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের এখনও খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি পুলিশের ব্যর্থতা মনে করছি না। একদিনেই পুলিশ সব পারবে বিষয়টি তা নয়, কখনও এক ঘণ্টায় হয়, আবার কখনও একটু সময় লাগে।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে ডিএমপিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করছে। আশা করছি, অচিরেই আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হবো।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, আমরা ফেসবুকের ফেক আইডিগুলো শনাক্ত করছি। কিছু আইডি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু যে কোনো নামে যেকোন সময় সহজেই আইডিগুলো খোলা যায়। এ বিষয়ে আমরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বসেছিলাম। তারা কিছু বিষয়ে সহায়তা দিতে সম্মতি দিয়েছে। আমরা আগে থেকেই ফেসবুকের একজন এডমিনিস্ট্রেটর আমাদের দেশে রাখার অনুরোধ করেছিলাম, এখনও বলছি। যাতে পুলিশ কোনো একাউন্টের বিষয়ে অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিদেশ থেকে আইডি ব্যবহার করে লাইভে এসে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশপ্রধান বলেন, বিদেশে থাকুক আর যেখানেই থাকুক, দেশের আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটলে পুলিশ আইনের প্রয়োগ করবে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা করা হবে।

শেয়ার করুন ..