সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন

167
Exif_JPEG_420

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাঙ্গালি জাতিস্বত্ত্বার স্বাধিকার অর্জনই ছিল তার জীবন সংগ্রামের এক ও অভিন্ন লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি জীবনব্যাপী জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছেন। প্রতিবাদী ভাষা দিয়ে তিনি পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছেন। সেই প্রতিবাদী মানুষ হিমালয়তুল্য মানবসন্তান যিনি মহীরুহের মতো আমাদের মাথায় ছাতা ধরেছিলেন সেই বীর পুরুষকে হত্যা করে কাপুরুষরা নিন্দিত ও ঘৃণিত হয়ে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর হয়েছে। তারা ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলেছে আর না হয় বর্জ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিক জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন ১৯৪৮ ও ১৯৫২ তে তিনি ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ১৯৫৪ ্এর যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনে সংগ্রাম করেছেন। ১৯৫৮ তে আইয়ুবের সামরিক শাসনের প্রতিবাদ প্রতিরোধ করেছেন। এরপর ১৯৬২ এর ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৪ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফার আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, সত্তুরের সাধারন নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে স্বাধীনতার ঘোষনা পর্যন্ত সমুদয় সংগ্রামে তিনি ছিলেন কিংবদন্তী অবিসংবাদিত পুরুষ।

স্বাধীন বাংলাদেশকে যে মানুষটি একটি লাল সবুজ পতাকা দিলেন, যিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করালেন, জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দিয়ে যিনি বাংলা ও বাঙ্গালির মহত্ব প্রকাশ করলেন তার বুকে বিশ্বাসঘাতকরা অস্ত্র ঠেকিয়ে আঘাত করে বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চাইছিল। তারাই তাকে সপরিবারে হত্যা করেছে। সেই ঘাতকদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রদর্শন করে তারা বলেন বিশ্বের নৃশংসতম ঘটনা বঙ্গবন্ধু হত্যা। জাতির এই কলংক মোচন করতে হবে।

প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদের এ সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক আবদুল বারী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী , সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, প্রেসক্লাব সহসভাপতি আবদুল ওয়াজেদ, প্রবীন সাংবাদিক অরুন ব্যানার্জি, সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির আবুল কাসেম, দৈনিক কল্যাণের কাজী শওকত হোসেন ময়না, কার্য নিবাহী কমিটির সদস্য আমিনুর রশীদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অসীম চক্রবর্তী, মোহনা টিভির আবদুল জলিল প্রমুখ।

সাংবাদিক বক্তারা শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করার আহবান জানিয়ে আরও বলেন ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, তারা আঘাত করেছে বাঙ্গালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষার জন্য সংগ্রাম, মুক্তমন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বাঙ্গালির চিরায়ত ইতিহাস, ঐতিহ্য, আমাদের বাঙ্গালির জাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে।

সিআইকে ইঙ্গিত করে তারা বলেন বঙ্গবন্ধু আশংকা প্রকাশ করে বলেছিলেন ওরা চিলির আলেন্দেকে হত্যা করেছে। তাদের কাছে মাথা নত করা নয় বরং বাংলার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের ।

সংবাদিক বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন তিনি আমাদের জাতির জনক, তিনি আমাদের অভিভাবক, তিনি আমাদের পথ প্রদর্শক। জাতি যুগ যুগ ধরে তাকে স্মরন ও বরন করে যাবে। একই সাথে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ জাতি কাজ করে যাবে । এটাই আজকের দিনের অঙ্গীকার।

শেয়ার করুন ..