ওয়ানডের পর টি-২০ সিরিজেও জয়

284

টেস্টে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডেতে দারুণ জয়। এবার টি-২০ সিরিজও দুর্দান্তভাবে জিতেছে টাইগাররা। চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় সাকিবরা।

তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ডিএল পদ্ধতিতে ক্যারিবীয়দের ১৮ রানে হারিয়েছে সফরকারীরা।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডে আইরিশদের তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা।

১৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। গত ম্যাচে বাংলাদেশকে দারুণ ভুগিয়েছিলেন আন্দ্রে ফ্লেচার। তবে তাকে আজ সেই সুযোগ দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। শুরুতেই এ ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান কাটার মাস্টার। কিছুক্ষণ পরে আরেক ওপেনার চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (১৯) আউট করেন সৌম্য। আর ষষ্ঠ ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে বোল্ড করে সাকিব ফেরালে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা।

দলীয় ৭৭ রানে দারুণ এক ডেলিভেরিতে দিনেশ রামদিনকে (২১) বোল্ড করে ফেরান রুবেল হোসেন। কিছুক্ষণ পর রোভম্যান পাওয়েলকে (২৩) মোস্তাফিজ ফেরালে বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন আন্দ্রে রাসেল। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক। আবু হায়দার রনির শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ব্র্যাথওয়েট।

একের পর এক উইকেট পড়লেও টিকে থাকেন আন্দ্রে রাসেল। রীতিমতো টাইগার বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালাতে থাকেন তিনি। এতে হেরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তবে বাস্তবে তা রূপ পায়নি। লড়তে লড়তে হার মানে রাসেলও। দলীয় ১৩৫ রানে তাকে থামান মোস্তাফিজ। ফেরার আগে মাত্র ২১ বলে ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন এ ক্যারিবীয় হার্ডহিটার।

সোমবার ফ্লোরিডার লডারহিলে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ও লিটন। ১৩ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফেরেন তামিম। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামেন সৌম্য। যথারীতি ব্যর্থতার পরিচয় দেন তিনি। আউট হন ৫ রান করে। পরে লিটনের সঙ্গে এসে যোগ দেন মুশফিক। মিস্টার ডিপেন্ডেবল বিদায় নেন ব্যক্তিগত ১২ রানে।

মুশফিকের বিদায়ের পর মাঠে নামেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। অধিনায়ককে নিয়ে দলীয় শত রানের কোটা পার করেন লিটন। তার আগে মাত্র ২৪ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ব্যক্তিগত ৬১ রানে থামে এ ওপেনারের বিস্ফোরক ইনিংস। ৩২ বলে ৩ ছক্কা ও ৬ চারে এ ইনিংস সাজান তিনি।

এরপর সাকিবের সঙ্গে এসে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনের জুটিতে ভালোই এগুচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে হঠাৎই ছন্দপতন। দলীয় ১৪৬ রানে ২৪ করে ফেরেন সাকিব। এরপর আরিফুল হককে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান মিস্টার কুল। ২৫ বলে দুজনের জুটিতে আসে ৩৮ রান। ২০ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। আর ১৬ বলে ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন আরিফুল।

ম্যাচ সেরা হন লিটন কুমার দাস আর সিরিজ সেরা হল টাইগার অধিনায়ক সাকিব অাল হাসান।

শেয়ার করুন ..