ঝিনাইদহের খেলাধুলায় কারোর চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই : জয়নাল আবেদীন

238

এলিস হক, ঝিনাইদহ : একজন নিপাট ভদ্রলোক। প্রতিদিন স্টেডিয়ামে আসেন। খেলা পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় অভিভাবক ও ছেলেমেয়ে খেলোয়াড়দের সাথে কুশল বিনিময় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে অনেক অনেক কথা বলেন। ক্রীড়াঙ্গনে অতি পরিচিত মুখ ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং একদা তিনি কাবাডি জগতের ক্রীড়াবিদ এবং এখনো তিনি পুরোদস্তুর ক্রীড়া সংগঠক। শুরুতেই তিনি সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঝিনাইদহের খেলাধুলার বিষয় নিয়ে অনেক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। বেশ খোলামন নিয়ে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে। ‘আমাদের ঝিনাইদহ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম বারো মাস খেলাধুলার আসর বসে। এমন কোনো খেলা নেই আমাদের এখানে খেলা হয় না। কী নাই ঝিনাইদহে? প্রাপ্তি অনেক। ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় যুব মহিলা হকি প্রতিযোগিতায় শিরোপা লাভ করেছে ঝিনাইদহ যুব প্রমীলা দল।’ এক প্রশ্নোত্তরে বাংলাদেশ যুব গেমস ২০১৭-১৮ খুলনা বিভাগীয় কাবাডি অঞ্চলের উপকমিটির চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন-‘২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ যুব গেমসে খুলনা বিভাগীয় প্রমীলা হকি দল দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন এবং স্বর্ণপদক পেয়েছে। যার ৮ জন প্রমীলাই হলো ঝিনাইদহের। কাবাডি যুব প্রমীলা দল রানার্স আপ হয়ে রৌপ্যপদক পেয়েছে। এছাড়াও সাঁতার ইভেন্টেও ঝিনাইদহ হতে ক্ষুদে দক্ষ সাঁতারু বের হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঝিনাইদহের ছেলেমেয়েরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে আমাদের ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থাদের চৌকস ক্রীড়া সংগঠকদেরসম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, ফুটবল-ক্রিকেট ছাড়াও আমাদের এখানকার স্টেডিয়ামে ক্যারাতে, জুডো, কাবাডি, হকি খেলা নিয়মিত অনুশীলন হয়।কথা প্রসঙ্গে খেলার মাঠ নিয়ে কিছু বলার চেষ্ট করলেন তিনি। ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝালেন যে, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ীআন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম গড়ে তোলা অসম্ভব কিছু নয়। আমাদের স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজনের দিক দিয়ে আমরা কারোর চেয়ে খুব পিছিয়ে নাই। খেয়াল করলে দেখবেন যে, ঝিনাইদহ শহরের আশেপাশে কিংবা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিশাল খেলার মাঠ আছে। কিন্তু খেলাধুলাকে এগিয়ে নেয়ার মতো পৃষ্ঠপোষক নাই। আবার খেলা আয়োজন করার মতো পৃষ্ঠপোষক থাকলেও খেলার মাঠ নাই। এমন অবস্থায় চললে হলে কী কেউ কোনো কিছু করতে পারে পৃষ্ঠপোষকত ছাড়া? আমরা না চাইলেও পৃষ্ঠপোষকরা সদর্বে এগিয়ে আসেন। আসলে কথা হলো আমাদের ক্রীড়াঙ্গন যেনো হয়
সত্যিকারের খেলাধুলা। সুুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়-সেই লক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠকরা বিভিন্ন ইভেন্টের খেলাধুলার আয়োজন নিয়ে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তাছাড়া প্রচার-প্রচারণা না পেলে কোনোভাবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মিডিয়া এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত খেলাধুলার প্রচার-প্রসারের জন্য। তিনি সর্বশেষ বর্তমান খেলার পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ২০১১ ও ১২ সালে ঝিনাইদহ স্টেডিয়ামে নূর নবী সিদ্দিকী স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয় স্কুল কাবাডি প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহের ফজর আলী স্কুল এ্যান্ড কলেজের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০১২ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে সাঁতার প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাফল্য পায় ঝিনাইদহের প্রমীলা সাতারুরা। ২০১৪ সালে জাতীয় স্কুল হকি প্রতিযোগিতায় খুলনা অঞ্চলের ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী স্কুল দল রানার্স আপ হয়। গত ৪ বছর ধরে ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে আন্তঃইউনিয়ন ও আন্তঃউপজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ঝিনাইদহ ডিএসএর ব্যবস্থাপনায় প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। পবিত্র ঈদুল আযহার পর ঝিনাইদহ স্টেডিয়ামে আন্তঃউপজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই হচ্ছে আমাদের ঝিনাইদহের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বশেষ ফিরিস্তি।’( লেখক ক্রীড়া ধারাভাষ্যকারও ফুটবল রেফারী)

শেয়ার করুন ..